Visva Bharati:রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে যুক্ত হলো এক গৌরবোজ্জ্বল নতুন অধ্যায়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক দেশের পাঁচটি ধ্রুপদী ভাষার উৎকর্ষ কেন্দ্র গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ধ্রুপদী বাংলা ভাষার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বিশ্বভারতীকে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির জগতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই উৎকর্ষ কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য ও কার্যক্রম
কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিশেষ অনুমোদনের ফলে শান্তিনিকেতনে বাংলা ভাষার চর্চা, সংরক্ষণ এবং বিশ্বব্যাপী প্রসারের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মূল দিকগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
প্রাচীন পুঁথি ও দুর্লভ গ্রন্থ সংরক্ষণ: বাংলা ভাষার প্রাচীন ও অমূল্য পুঁথি, দুর্লভ গ্রন্থ এবং ঐতিহাসিক নথিগুলি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাইজ করে চিরতরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
উচ্চতর গবেষণা ও বিশেষ পদ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গভীর ও উচ্চতর গবেষণার জন্য বরিষ্ঠ গবেষক এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের জন্য বিশেষ গবেষণা-পদের সৃষ্টি করা হবে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা: বাংলা ভাষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বার্ষিক পুরস্কার ও সম্মাননা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুবাদ ও সাংস্কৃতিক বিস্তার: অন্য ভাষার গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম বাংলায় অনুবাদের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের রত্নভাণ্ডারকে বিশ্বের অন্যান্য ভাষাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবে এই কেন্দ্র।
আন্তর্বিষয়ক গবেষণা: ভাষা ও সাহিত্যকে কেবল ব্যাকরণগত সীমানায় আটকে না রেখে ইতিহাস, সঙ্গীত, দর্শন এবং নৃতত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করে আন্তর্বিষয়ক (Interdisciplinary) গবেষণার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
দেশের পাঁচটি ধ্রুপদী ভাষার উদ্যোগ
কেন্দ্রীয় সরকারের এই অনুমোদিত প্রকল্পের অধীনে দেশের মোট পাঁচটি ধ্রুপদী ভাষার জন্য পাঁচটি পৃথক উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ভাষাগুলি হলো—অসমিয়া, বাংলা, মরাঠি, পালি এবং প্রাকৃত। এর মধ্যে বাংলার দায়িত্ব বিশ্বভারতীর ওপর ন্যস্ত হওয়ায় রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন যে বিশ্বমঞ্চে বাংলা ভাষার গবেষণার প্রধান পীঠস্থান হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।
কেন এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ?
গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মভূমি শান্তিনিকেতন বরাবরই শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মননের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এসেছে। বিশ্বভারতীতে ধ্রুপদী বাংলা ভাষার এই উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার ফলে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক গবেষণার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটবে। এটি আগামী প্রজন্মকে মাতৃভাষার শিকড়ের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বদরবারে বাংলা ভাষাকে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করবে।








