UPSC Success Story:প্রোথিত বিশ্বাস আর অদম্য জেদ থাকলে জন্মলগ্ন থেকেই সুযোগের অভাব মানুষকে পিছিয়ে রাখতে পারে না। এই আপ্তবাক্যটি ফের একবার প্রমাণ করে দেখালেন কেরালার কোঝিকোডের থোত্তিলপালেমের অজয় আর. রাজ। ছোটবেলা থেকেই চোখের আলো ধীরে ধীরে নিভে আসলেও মনের জোর ও কঠোর পরিশ্রমে ভর করে দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি (UPSC)-তে বাজিমাত করেছেন তিনি। শুধু একবার নয়, অজয় এই কঠিন পরীক্ষায় সফল হয়েছেন দু’বার।
দারিদ্র্য ও অন্ধত্বের সঙ্গে লড়াই
অজয়ের জীবন সংগ্রাম সাধারণ আটপৌরে দশটার গল্পের মতো ছিল না। অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান অজয়ের বাবা পেশায় একজন অটোচালক এবং মা গৃহবধূ। বাবা সারাদিন অটো চালিয়ে যেমনতেন প্রকারে সংসারের চাকা ঘোরাতেন এবং ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতেন। কিন্তু বিধ্বংসী আঘাত আসে অজয়ের আট-নয় বছর বয়সে, যখন তাঁর দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষীণ হতে শুরু করে। চোখের ঝাপসা দৃষ্টি ধীরে ধীরে গোটা পৃথিবীকে তাঁর কাছে অন্ধকার করে তুলতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমদিকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু অদম্য মনোবলের জোরে তিনি সেই অন্ধকারকেই নিজের শক্তির উৎস বানিয়ে নেন।
স্বপ্নের উড়ান ও উচ্চশিক্ষা
দৃষ্টির প্রতিবন্ধকতাকে কখনোই নিজের অগ্রগতির পথে বাধা হতে দেননি অজয়। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী অজয় স্কুল পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে দিল্লির নামী সেন্ট স্টিফেন’স কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এই সময় থেকেই তাঁর সিভিল সার্ভিস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করে। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, নিয়তি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, সঠিক পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে তা বদলানো সম্ভব।
বারবার ব্যর্থতা, তবুও নাছোড়বান্দা জেদ
ইউপিএসসি-র মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। অজয়কেও প্রথমের দিকে তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয়। প্রিলিমস থেকে মেইনস—একাধিকবার তিনি ব্যর্থতার মুখ দেখেন। আর্থিক অনটন যখন চরমে, তখন জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি কলেজে পড়ানো শুরু করেন। পাশাপাশি একটুও সময় নষ্ট না করে চলতে থাকে সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি।
বারংবার হোঁচট খেলেও নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি তিনি। অজয় তাঁর পঞ্চম প্রচেষ্টায় ইউপিএসসি-র ফলাফলে সর্বভারতীয় স্তরে ১০৯তম র্যাঙ্ক (AIR 109) অর্জন করেন। এর আগে তিনি ৭৩০তম র্যাঙ্ক পেয়ে রেলওয়ে সার্ভিস (Railway Services)-এ সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর শৈশবের স্বপ্ন ছিল একজন আইএএস (IAS) অফিসার হওয়ার। সেই লক্ষ্যেই তিনি থামেননি এবং পঞ্চমবারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ছিনিয়ে আনেন।
অনুপ্রেরণার অপর নাম অজয়
অজয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যের পুরো কৃতিত্বই তিনি তাঁর মা-বাবা এবং শিক্ষকদের উৎসর্গ করেছেন। তাঁর জীবন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, স্বপ্ন দেখার জন্য চোখের দৃষ্টির চেয়েও বেশি প্রয়োজন একটি দৃঢ় সংকল্প এবং মনের জোর। অজয় আর. রাজের এই লড়াকু যাত্রাপথ আগামী দিনে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে স্বপ্ন দেখতে ও তা পূরণে লড়তে জোগান দেবে অন্তহীন অনুপ্রেরণা।
আরও পড়ুন:Mount Kailash: রহস্য ঘেরা যে পবিত্র শৃঙ্গ আজও মানুষের পদচিহ্নের অপেক্ষায়!!!!








