Tourist spot:উৎসবের দিনগুলোতে ঢাকের আওয়াজ, মাইকের শোরগোল আর মণ্ডপের ভিড় ঠেলে অনেকের মনই একটু নিভৃত শান্তির খোঁজে আকুপাকু করে। বাঁধাধরা ছুটির ছক ভেঙে যদি এ বার কাঁধে ক্যামেরা ও বাইনোকুলার ঝুলিয়ে পাড়ি জমান প্রকৃতির বুকে? পাখির ডানার শব্দ আর কিচিরমিচিরে ঘুম ভাঙার আনন্দই আলাদা।

পাখিপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য পূর্ব ভারতের এমনই ১২টি মনমুগ্ধকর বার্ডিং স্পটের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. গজলডোবা (উত্তরবঙ্গ)
তিস্তা ব্যারেজের বিস্তীর্ণ জলাশয় পরিযায়ী পাখিদের যেন এক স্বর্গরাজ্য। শান্ত নদীতে নৌকায় ভেসে দেখা মেলে বার-হেডেড গুজ, রডি শেলডাক এবং নর্দান পিনটেল-এর মতো রাজকীয় সব পাখির।
২. লাভা ও নেওড়া ভ্যালি (কালিম্পং)
ঘন পাইন ও ওকের কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি জঙ্গল। নিস্তব্ধ উপত্যকায় কান পাতলেই শোনা যায় বিরল সব পাখির ডাক। এখানে দেখা পেতে পারেন রূপকথা থেকে উঠে আসা স্যাটর ট্র্যাগোপ্যান, স্কারলেট ফিঞ্চ এবং রুফস-নেকড হর্নবিল।

৩. লাতপাঞ্চার (কার্শিয়াং)
মহানন্দা অভয়ারণ্যের কোলে ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম। চা বাগানের আঁকাবাঁকা মেঠো পথে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়তে পারে এশিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার, গ্রেট বার্বেট কিংবা বিরল রুফস-নেকড হর্নবিল।
৪. মঙ্গলজোড়ি (চিল্কা, ওড়িশা)
একসময়ের শিকারিদের গ্রাম এখন পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। চিল্কা হ্রদের অগভীর জলে নৌকো চড়ে কাছে থেকেই দেখা যায় ব্ল্যাক-টেল্ড গডউইট, পার্পল সোয়াম্পহেন ও গ্লসি আইবিস।
৫. চুপির চর (পূর্বস্থলী, পূর্ব বর্ধমান)
কলকাতার একেবারেই কাছে গঙ্গার বাঁকে গড়ে ওঠা এক অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ। শীতের শুরুতেই এখানে মেলা বসে দেশি-বিদেশি পাখিদের। এখানে দেখতে পাবেন রেড-ক্রেস্টেড পোচার্ড, কটন পিগমি গুজ এবং ব্রোঞ্জ-উইংড জকানা।

৬. কুলিক পাখিরালয় (রায়গঞ্জ)
এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক পাখি অভয়ারণ্য। কুলিক নদীর পাড়ে হাজার হাজার বক ও শামুকখোলের কোলাহল আর ডানা ঝাপটানোর দৃশ্য যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে। প্রধান আকর্ষণ এশিয়ান ওপেনবিল স্টর্ক, ব্ল্যাক-ক্রাউনড নাইট হেরন ও লিটল করমোরান্ট।

৭. সুন্দরবন (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)
ম্যানগ্রোভের খাঁড়িতে সুন্দরবনের মূল আকর্ষণ শুধু বাঘ নয়—নৌকা বা লঞ্চে ভেসে দেখা মেলে বৈচিত্র্যময় সব মাছরাঙার। নজরে পড়বে ব্রাউন-উইংড কিংফিশার, ব্ল্যাক-ক্যাপড কিংফিশার এবং এশিয়ান ডাওইচার।

৮. রসিকবিল (কোচবিহার)
বিশাল জলাভূমি আর চারপাশের গাঢ় সবুজের সমারোহ। শহরের যান্ত্রিক ক্লান্তি দূর করতে এই নিরিবিলি জলাশয়ের জুড়ি নেই। দেখা মিলবে লেসার হুইসলিং ডাক, ক্যাটল ইগ্রেট এবং লিটল করমোরান্ট।
৯. চিন্তামণি কর বার্ড স্যাঙ্কচুয়ারি (নরেন্দ্রপুর)
উৎসবের ছুটিতে কলকাতা ছেড়ে দূরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে আভিজাত্যময় এই ছোট জঙ্গলটি আপনার পারফেক্ট ডেস্টিনেশন। শহরের কোলেই দেখা মিলবে এশিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার, টিকেলস ব্লু ফ্লাইক্যাচার ও বুলবুল/ব্রাউন হক আউল-এর।
১০. সাঁতরাগাছি ঝিল (হাউড়া)
শহুরে ট্র্যাফিক আর কংক্রিটের মাঝেই হাজার হাজার মাইল পার করে আসা পরিযায়ী পাখিদের ঠাঁই। শীতের সকালে ঝিলের পাড়ে দেখা মেলে গ্যাডওয়াল, নর্দান পিনটেল ও নব-বিলড ডাক।
১১. বেতলা ন্যাশনাল পার্ক ও নেতারহাট (ঝাড়খণ্ড)
ছোটনাগপুর মালভূমির শালবন, পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যাস্ত আর পাখিদের কুজন—সব মিলিয়ে দারুণ এক উইকেন্ড ট্রিপ। ট্রেকিংয়ের ফাঁকেই দেখা মিলবে ইন্ডিয়ান নাইটজার, স্ট্রাইপ-থ্রোটেড বুলবুল ও রেড জাঙ্গলফাউল-এর।
১২. মহানন্দা ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি (শিলিগুড়ি/সুকনা)
পাহাড়ের পাদদেশে ঘন বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে নানা প্রজাতির পাহাড়ি পাখির দেখা মেলে। ছবি তোলার জন্য এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা স্পট।
পরামর্শ: এ বারের পুজোয় তবে কোলাহল এড়িয়ে পাখির ডানা আর কলরবের ছন্দে নিজেকে নতুন করে রিচার্জ করে নিন।
আরও পড়ুন :Visva Bharati:বিশ্বভারতী ও ধ্রুপদী বাংলা ভাষা!!! ঐতিহ্য ও আধুনিক গবেষণার নতুন মেলবন্ধন!!!








