Homeশিক্ষাNational Teachers Award 2026:দৈনিক মাত্র ৬০ টাকার উপার্জন থেকে জাতীয় সম্মান!!! দিল্লির...

National Teachers Award 2026:দৈনিক মাত্র ৬০ টাকার উপার্জন থেকে জাতীয় সম্মান!!! দিল্লির ‘মাদার টিচার’ সুমন গোয়েলের অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনসংগ্রাম!!!

National Teachers Award 2026:ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব—তা আরও একবার প্রমাণ করলেন শিক্ষিকা সুমন গোয়েল। চরম আর্থিক অনটন ও ব্যক্তিগত দূর্যোগের মেঘ কাটিয়ে আজ তিনি দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষিকা। ২০২৬ সালের সম্মানজনক ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’ (National Teachers Award 2026)-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন দিল্লির রোহিণীর জিএসকেভি পুথ কালান (GSKV Pooth Kalan) স্কুলের এই প্রাথমিক শিক্ষিকা। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করা হবে।

গ্রামের সাধারণ শৈশব থেকে ডাক্তার হওয়ার অধরা স্বপ্ন

হরিয়ানার জিন্দ জেলার জুলানা গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে সুমনের বেড়ে ওঠা। গ্রামের বিদ্যালয় থেকেই তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে চিকিৎসক হবেন, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দশম শ্রেণির পর পরিবার গভীর আর্থিক সংকটে পড়ে। ২০০২ সালে দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পর সংসারের হাল ধরতে ও নিজের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে দিল্লিতে পাড়ি জমান সুমন।

দৈনিক ৬০ টাকার বিনিময়ে শুরু সংগ্রাম

দিল্লিতে এসে ২০০৪ সালে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হিসেবে কাজ শুরু করেন সুমন গোয়েল। সে সময় তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা—অর্থাৎ দিনে হিসাব করলে আয় দাঁড়াত প্রায় ৬০ টাকা। এই সামান্য অর্থ দিয়েই তিনি নিজের উচ্চশিক্ষার খরচ ও কলেজের ফি মেটাতেন।

সহকর্মীদের অনুপ্রেরণায় এরপর তিনি সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। অবশেষে ২০০৯ সালে স্থায়ী সরকারি শিক্ষকের চাকরি পান তিনি। ২০১৩ সালে তিনি ফিরে আসেন নিজের পুরোনো কর্মক্ষেত্র জিএসকেভি পুথ কালানে। সুমনের মতে, “এই স্কুলে ফেরা কেবল পেশাগত সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি ছিল সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি ঋণ স্বীকার করা যা আমার জীবন গড়তে সাহায্য করেছে।”

শ্রেণিকক্ষের সীমানা ছাড়িয়ে ‘মাদার টিচার

সুমন গোয়েলের শেখানোর পদ্ধতি কেবল পাঠ্যপুস্তকের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। পুথ কালান, কৃষ্ণ বিহার এবং মাঙ্গে রাম পার্কের মতো প্রান্তিক এলাকা থেকে আসা প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক দিকটি তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। দিনমজুর পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার আলোর পাশাপাশি তিনি নিজের উদ্যোগে জোগান শীতের পোশাক, খাতা-কলম ও পুষ্টিকর খাবার। প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার কারণে তিনি স্কুলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ‘মাদার টিচার’ নামে।

জীবনের ঝড়-ঝাপটা ও পারিবারিক সমর্থন

অল্প বয়সেই পিতামাতাকে হারিয়ে একা হয়ে পড়েছিলেন সুমন। তবে বিয়ের পর স্বামী গৌরবের থেকে পান অসামান্য সহযোগিতা। জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের টানা তিন মাসের কঠিন আবেদন প্রক্রিয়ায় সুমনের পাশে থেকেছেন তাঁর স্বামী। ঘরে প্রয়োজনীয় আইটি (IT) পরিকাঠামো তৈরি করা থেকে শুরু করে তাঁকে মানসিকভাবে উৎসাহিত করা—সবক্ষেত্রেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গৌরব।

সাফল্যের ঝুলিতে জোড়া স্বীকৃতি

প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ শিক্ষাকর্মে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি আজ এই সম্মানে ভূষিত। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালেও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সুমন গোয়েলকে ‘রাজ্য শিক্ষক পুরস্কার’ (State Teacher Award)-এ সম্মানিত করেছিল দিল্লি সরকার।

দারিদ্র্যের কঠিন দেওয়াল ভেঙে সুমন গোয়েলের জাতীয় স্তরে পৌঁছানোর এই গল্প বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আরও পড়ুন :New Jalpaiguri:বিশ্বমানের আধুনিকতায় সাজছে নিউ জলপাইগুড়ি!!!উত্তর-পূর্ব ভারতের নয়া ‘গেটওয়ে’ হতে চলেছে এনজেপি!!!

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সবচেয়ে জনপ্রিয়