UPSC SuccessStory:অভাব, প্রতিকূলতা আর হাজারও প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি (UPSC Civil Services Examination)-তে প্রথম প্রচেষ্টাতেই বাজিমাত করলেন মুর্শিদাবাদের মেয়ে সানা আজমী। সর্বভারতীয় স্তরে ৭৬৪ র্যাঙ্ক (AIR) অধিকার করে তিনি শুধু নিজের নয়, তাঁর কৃষক বাবার আজীবন দেখা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
সানা আজমীর সাফল্যের নেপথ্য কাহিনি
পরিবারের পটভূমি: মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি এলাকার পাকালপাড়া গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম সানার। দশ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
বাবার সংগ্রাম: সানার বাবা মাইজুদ্দিন শেখ আর্থিক অনটনের কারণে নবম শ্রেণির বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। অল্প বয়সেই চাষবাসের কাজে নামতে হলেও তিনি পণ করেছিলেন, তাঁর সাত কন্যাসহ সব সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন।
স্কুল ও কলেজ জীবন: গ্রামের স্কুল থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন সানা। এরপর সাগরদীঘির আল-আমিন মিশন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। অত্যন্ত মেধাবী সানা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পুরো মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে সকলের নজর কাড়েন।
উচ্চশিক্ষা ও প্রস্তুতি: স্কুল পাঠ শেষ করে তিনি দিল্লির ঐতিহ্যবাহী জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই শুরু হয় তাঁর ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মূল প্রস্তুতি।
প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্য এবং আগামী লক্ষ্য
২০২৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসের ফলাফলে প্রথমবারেই সাফল্য অর্জন করেন সানা আজমী। সর্বভারতীয় স্তরে ৭৬৪ র্যাঙ্ক অর্জন করার সুবাদে তিনি ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস (IRS)-সহ অন্যান্য গ্রুপ-এ পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। তবে এখানেই থামতে নারাজ এই জেদি তরুণী। নিজের স্বপ্নের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে এবং একজন সফল আইএএস (IAS) অফিসার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।
সানার এই সাফল্য কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়; এটি এক সাধারণ কৃষক বাবার অপূর্ণ শিক্ষাগত আকাঙ্ক্ষা, নিরলস জীবনসংগ্রাম এবং এক অদম্য কন্যার সাফল্যের এক উজ্জ্বল সোনালী ইতিহাস।
সানা আজমীর এই পথচলা দেশের দূরদূরান্তের অজপাড়াগাঁয়ে বেড়ে ওঠা হাজার হাজার তরুণ-তরুণীকে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে লড়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।








