Railway Underpass:দেশে রেললাইন পারাপারের জন্য বহু জায়গায় আন্ডারপাস বা সাবওয়ে দেখা যায়। উপর দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটছে ট্রেন, আর নিচ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করছেন মানুষ—এতদিন এটাই ছিল স্বাভাবিক চিত্র। তবে এবার ভারতীয় রেলে ঘটলো এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এই প্রথম দেশে এমন এক রেলওয়ে আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের সুবিধার্থে নয়, বরং বন্যপ্রাণীদের প্রাণ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে নির্মিত।
কেন তৈরি হলো এই আন্ডারপাস?
গুজরাটের বিখ্যাত গির অরণ্য হলো এশিয়াটিক লায়ন বা এশীয় সিংহদের একমাত্র প্রাকৃতিক বাসস্থান। কিন্তু জঙ্গলের মধ্য দিয়ে বা তার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইন পার হতে গিয়ে প্রায়শই বিপদে পড়ে এই রাজকীয় প্রাণীরা। উল্টো দিকে যাওয়ার সময় লাইন পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একাধিক সিংহের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে অতীতে।
এই বিপদের হাত থেকে এশিয়াটিক লায়নদের রক্ষা করতেই উদ্যোগী হয়েছে বন বিভাগ এবং পশ্চিম রেলওয়ের ভাবনগর ডিভিশন। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় ধাসা-রাজুলা এবং রাজুলা-পিপাভাও রেলওয়ে সেকশনে বিশেষ ‘লায়ন আন্ডারপাস’ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পের মূল বিবরণী:
মোট বাজেট: ৯ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা।
পরিকল্পিত আন্ডারপাস: মোট ৫টি।
বর্তমান অবস্থা: ১টি আন্ডারপাসের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন এবং চালু হয়েছে, বাকি ৪টির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
উপকারভোগী: কেবল সিংহ নয়, ওই অঞ্চলের অন্যান্য বন্যপ্রাণীরাও নিরাপদে এই পথ দিয়ে রেললাইনের এপার-ওপার যাতায়াত করতে পারবে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
রেল ও বন বিভাগের আধিকারিকরা আশা করছেন, এই আন্ডারপাস ব্যবহারের ফলে সিংহ ও অন্যান্য প্রাণীদের রেললাইনের ওপর উঠে আসার প্রবণতা অনেকটাই কমে যাবে।
যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে আগামী দিনে দেশের অন্যান্য বনাঞ্চল—যেখান দিয়ে রেললাইন গিয়েছে এবং বন্যপ্রাণীদের কাটা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে—সেখানেও একই ধরনের আন্ডারপাস বা ‘ওয়াইল্ডলাইফ ক্রসিং’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় রেলের।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই প্রকল্প ভারতে পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।



