NEET: নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসার। তবুও স্বপ্নের আকাশ ছোঁওয়ার তাগিদ থাকলে যে কোনো বাধা আটকে রাখতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দেখাল বিহারের সহারসার তিন ভাইবোন। বৃহস্পিতবার (১৬ জুলাই) সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET UG 2026)-র ফল প্রকাশ হতেই সামনে এসেছে রজনীশ, প্রহ্লাদ ও সাক্ষীর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্প।
তিন ভাইবোনের বাবা রোহিত আনন্দ পেশায় একজন সামান্য মুদি দোকানদার। দোকান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে পরিবারে দু-বেলা অন্নসংস্থান করাই কঠিন। মা পুনম দেবী ও বাবার পক্ষে সন্তানদের দিল্লির নামীদামী সংস্থা কিংবা রাজস্থানের কোটায় পাঠিয়ে মোটা টাকার কোচিং করানো ছিল অলীক কল্পনা। তবে সংসারের এই আর্থিক অনটনকে কখনও নিজেদের লক্ষ্যের সামনে শক্ত দেওয়াল হতে দেননি রজনীশরা।
বাবার সেই অমোঘ বার্তা:
“আমাদের সামর্থ্য নেই কোটা বা দিল্লিতে পাঠানোর, কিন্তু তোদের পড়াশোনায় যতটুকু পারি সাধ্যমতো সাহায্য করে যাব।”
সাফল্যের ৩ সোনালী চাবিকাঠি
কোনো জাঁকজমকপূর্ণ কোচিং ছাড়াই সহারসার স্থানীয় একটি সাধারণ কেন্দ্রে বসেই প্রস্তুতির লড়াই শুরু করেন এই তিন ভাইবোন। তাঁদের এই যৌথ যাত্রায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে কয়েকটি কৌশল:
গ্রুপ স্টাডি (যৌথ পড়াশোনা): কঠিন বিষয়গুলো নিজেরা একসাথে বসে আলোচনা করতেন। এতে জটিল বিষয়গুলো বোঝা সহজ হতো এবং পারস্পরিক আত্মবিশ্বাস বাড়ত।
সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা (Time Management): নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সময়ের প্রতি কঠোর নিষ্ঠা রাখা।
মা-বাবার অগাধ বিশ্বাস: সততা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর মা-বাবার আস্থা তাঁদের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে।
বহু শিক্ষার্থী যখন লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বড় শহরের বিলাসবহুল কোচিংয়ে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পান না, সেখানে এক চিলতে ঘর আর সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে সম্বল করেই ডাক্তারি পড়ার টিকিট ছিনিয়ে নিলেন এই তিন ভাইবোন। তাঁদের এই অভূতপূর্ব সাফল্য আজ সহারসা ছাড়িয়ে গোটা দেশের লাখ লাখ পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীর কাছে এক নতুন অনুপ্রেরণা।




