The pride of Paschim Bardhaman: থাইল্যান্ডে যোগাসনে জোড়া সোনা জিতে আসানসোল-বার্নপুরের মুখ উজ্জ্বল করলেন রণু ও পম্পা।
ইচ্ছা, অদম্য অধ্যাবসায় এবং সঠিক নিষ্ঠা থাকলে যেকোনো বয়সেই সাফল্য স্পর্শ করা সম্ভব—এই সত্যকে আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুই প্রতিভাবান নারী। থাইল্যান্ডের আন্তর্জাতিক এশিয়া প্যাসিফিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করে জোড়া স্বর্ণপদক জয় করেছেন আসানসোলের রণু বিশ্বাস এবং বার্নপুরের পম্পা পাল।
সংসারের চেনা গণ্ডি ও দৈনন্দিন দায়িত্ব সামলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁদের এই ঐতিহাসিক জয় কেবল পশ্চিম বর্ধমান জেলা নয়, সমগ্র দেশ ও রাজ্যকে গর্বিত করেছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাঙালি নারীদের জয়জয়কার
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া প্যাসিফিক যোগাসন প্রতিযোগিতা’য় বিশ্ব দরবারে ভারতের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরেছেন এই দুই কৃতী। প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক মান অত্যন্ত উচ্চ হলেও, নিজেদের নিপুণ দক্ষতা ও আসন উপস্থাপনার মাধ্যমে বিচারকদের মুগ্ধ করেন তাঁরা।
রণু বিশ্বাস (আসানসোল): বয়স পঞ্চাশ স্পর্শ করলেও তাঁর শারীরিক নমনীয়তা ও মনোযোগ ছিল অসাধারণ। তিনি মাস্টার্স ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করে স্বর্ণপদক নিজের নামে করেন।
পম্পা পাল (বার্নপুর): বার্নপুরের বৈষ্ণববাঁধ এলাকার বাসিন্দা পম্পা দেবী মাস্টার্স বিভাগ-এ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সেরা শিরোপা অর্থাৎ সোনা জয় নিশ্চিত করেন।
সংসারের দায়িত্ব থেকে আন্তর্জাতিক সোনা: এক কঠিন লড়াইয়ের গল্প
পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছে যেখানে সাধারণ মানুষ অবসর বা বিশ্রামের চিন্তা করেন, সেখানে রণু বিশ্বাস ও পম্পা পাল নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করেছেন। পরিবার ও সংসারের চেনা ছক সামলে ভোর থেকে রাত অবধি চলত তাঁদের কঠোর অনুশীলন।
সময়ানুবর্তিতা: ভোর থেকেই পারিবারিক রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির কাজ শেষ করে নিয়মিত যোগাসনের ম্যাটে সময় দেওয়া ছিল তাঁদের অন্যতম অভ্যাস।
শারীরিক সামর্থ্য বজায় রাখা: বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের যে পরিবর্তন আসে, তা দূর করতে নিয়মিত শারীরিক চর্চা এবং কঠিন আসন অনুশীলনের প্রতি ছিল কড়া নজর।
মানসিক দৃঢ়তা: আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগী হওয়ার চাপ সামলানো এবং পদক জয়ের লক্ষ্য স্থির রাখা অত্যন্ত কঠিন ছিল, যা তাঁরা হাসিমুখে সম্পন্ন করেছেন।
আনন্দে ভাসছে শিল্পাঞ্চল
আসানসোল ও বার্নপুরের দুই গৃহবধূর এই বর্ণময় সাফল্যের খবর আসতেই সমগ্র শিল্পাঞ্চল জুড়ে আনন্দের হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীদের থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠন—সব মহল থেকেই তাঁদের শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে।
পারিবারিক বাধা বা বয়স যে স্বপ্নের কাছে কেবলই এক অজুহাত, তা তাঁদের এই লড়াই প্রমাণ করে দিল। সমাজের সমস্ত নারীদের কাছে, বিশেষ করে যারা সংসারের কাজে নিজেদের স্বপ্নকে আড়াল করে রেখেছেন, তাঁদের জন্য রণু বিশ্বাস ও পম্পা পাল আজ এক বিরাট অনুপ্রেরণার নাম।
আরও পড়ুন :NEET: পাহাড়ের চূড়ায় বসে স্বপ্নপূরণ, নেটওয়ার্কহীন গ্রাম থেকে সাফল্যের শিখরে দুই বোন!!!!








