Brunfelsia pauciflora:আজ যে ফুল গাঢ় বেগুনি, কাল তা-ই হালকা বেগুনি, আর পরশু একদম দুধে-সাদা! নামটাও ভারী অদ্ভুত—‘ইয়েস্টারডে, টুডে, টুমরো’ (Yesterday, Today, Tomorrow)। কোনো সময় বা তারিখের হিসাব নয়, ফুলের প্রতিদিনের রং বদলানোর এই অদ্ভুত স্বভাবের জন্যই এর এমন নামকরণ।
দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল ও পেরু অঞ্চলের এই গাছ ভারতীয় জলবায়ুর সাথে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে। সঠিক পরিচর্যা পেলে আপনার বারান্দা বা ছাদবাগান ভরে উঠবে এই মায়াবী সুবাসিত ফুলে।
গাছটির পরিচিতি
বৈজ্ঞানিক নাম: ব্রুনফেলসিয়া (Brunfelsia)
ধরণ: ঝোপজাতীয় গাছ
বৈশিষ্ট্য: প্রথম দিনে গাঢ় বেগুনি, দ্বিতীয় দিনে হালকা বেগুনি/গোলাপি এবং তৃতীয় দিনে সাদা রূপ নেয়। উজ্জ্বল সবুজ পাতার মাঝে তিন রঙের ফুলের উপস্থিতি বাগানকে চমৎকার বৈচিত্র্য দেয়।
রোপণ ও পরিচর্যার সহজ উপায়
এমন একটি অদ্ভুত সুন্দর গাছ কীভাবে ঘরে লালন-পালন করবেন? জেনে নিন সহজ কিছু কৌশল:
উপযুক্ত মাটি ও পাত্র:
দোঁআশ মাটি এই গাছের জন্য সবচেয়ে আদর্শ। আয়তাকার টব, ঝুড়ি বা মাঝারি যেকোনো পাত্রেই এই গাছ সহজে বেড়ে ওঠে। তবে টবে অবশ্যই ভালো জল নিকাশি ব্যবস্থা থাকতে হবে।
জল দেওয়ার নিয়ম:
গাছের গোড়ায় যেন কখনোই জল জমে না থাকে। মাটি শুকিয়ে এলে তবেই জল দিন।
ছাঁটাই বা প্রুনিং:
খুব বেশি যত্নআত্তির প্রয়োজন না হলেও সময়মতো শুকনো ফুল এবং বাড়তি ডালপালা ছেঁটে দিলে গাছ ঝাঁকড়া হয় এবং নতুন কুঁড়ি আসে।
সার প্রয়োগ:
প্রচুর ফুল পেতে মাঝে মাঝে জৈব সার (যেমন খোল পচা জল বা কম্পোস্ট) ব্যবহার করতে পারেন।
পোকা-মাকড় ও সাবধানতা
কীটপতঙ্গের আক্রমণ: গাছে মাঝে মাঝে অ্যাফিড বা মাইটের আক্রমণ হতে পারে। এর জন্য নিম তেল বা সাধারণ কীটনাশক স্প্রে করা প্রয়োজন।
পোষ্য থাকলে সাবধান: এই গাছের পাতা বা ফুল পোষা প্রাণী (কুকুর, বিড়াল)-র জন্য বিষাক্ত হতে পারে। তাই বাড়িতে পোষ্য থাকলে গাছটি তাদের নাগালের বাইরে রাখুন।
পরামর্শ: বারান্দার গ্রিল বা বাড়ির সীমানা প্রাচীরে এই গাছের টব রাখলে দূর থেকে এর সৌন্দর্য সবচেয়ে দারুণভাবে চোখে পড়ে।





