Homeব্লগSweet Shop History: রসগোল্লার আগে ভারতের মিষ্টির জগৎ কেমন ছিল?

Sweet Shop History: রসগোল্লার আগে ভারতের মিষ্টির জগৎ কেমন ছিল?

Sweet Shop History:বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই প্রতিটি পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মিষ্টি। কিন্তু আপনি কি জানেন, আধুনিক রসগোল্লা বা ছানার মিষ্টি আসার আগে ভারতীয়রা কী খেতেন? অথবা ভারতের প্রথম আধুনিক মিষ্টির দোকানটি কবে এবং কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল? ভারতের মিষ্টান্ন শিল্পের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এর শিকড় জড়িয়ে আছে আঠারো শতকের কলকাতার অলিগলিতে।

রসগোল্লার আগে কী খেতেন ভারতীয়রা?

আজ আমরা রসগোল্লা, সন্দেশ বা রসমালাই ছাড়া উৎসব কল্পনা করতে পারি না। কিন্তু ইতিহাস বলছে, প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতে আধুনিক ‘ছানা’ বা ‘দুগ্ধজাত মিষ্টি’র প্রচলন এমন ছিল না। সেই সময় মিষ্টি বলতে মূলত বোঝানো হতো:

নাড়ু ও মোয়া: গুড়, নারকেল এবং তিল দিয়ে তৈরি নাড়ু ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়।

খই ও মুড়ির মোয়া: জয়নগরের মোয়ার মতো আদি রূপগুলো তখন থেকেই প্রচলিত।

পিঠে-পুলি: চালের গুঁড়ো ও গুড় দিয়ে তৈরি নানাবিধ পিঠে ছিল ঘরোয়া উৎসবের প্রধান অঙ্গ।

বেসন ও ময়দার মিষ্টান্ন: উত্তর ভারতে লাড্ডু বা হালুয়ার প্রচলন ছিল বেশি।

মূলত পর্তুগিজদের আগমনের পর এবং ছানা তৈরির পদ্ধতি জনপ্রিয় হওয়ার পরেই ভারতীয় মিষ্টির জগতে ‘আধুনিক বিপ্লব’ আসে।

ভারতের প্রথম মিষ্টির দোকান: ১৭৮৫-র পুতুলপটি

ইতিহাসবিদদের মতে, ভারতের প্রথম সুসংগঠিত এবং নথিভুক্ত মিষ্টির দোকানটি স্থাপিত হয়েছিল ১৭৮৫ সালে উত্তর কলকাতার শোভাবাজারের পুতুলপটি এলাকায়। দোকানটির নাম ছিল ‘এম. এল. দাস’ (M.L. Das)।

সেই সময় আজকের মতো শো-কেস সাজানো দোকান ছিল না। মাটির মালসা বা কলাপাতায় মিষ্টি পরিবেশন করা হতো। এই দোকানটিই প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মিষ্টি বিক্রি শুরু করে, যা ছিল ভারতীয় মিষ্টান্ন শিল্পের এক ঐতিহাসিক মোড়।

নবীন চন্দ্র দাস: আধুনিক মিষ্টির জনক

যদিও ১৭৮৫ সালে প্রথম দোকানের খোঁজ পাওয়া যায়, কিন্তু মিষ্টির ইতিহাসে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন নবীন চন্দ্র দাস। ১৮৬৮ সালে কলকাতার বাগবাজারে তিনি দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই আবিষ্কার করেন বিশ্ববিখ্যাত ‘স্পঞ্জ রসগোল্লা’। আধুনিক সাজানো গোছানো মিষ্টির দোকানের যে ধারণা আজ আমরা দেখি, তার রূপকার ছিলেন তিনিই।

কলকাতার আরও কিছু প্রাচীন ঐতিহ্যের নাম

কলকাতার মিষ্টির ইতিহাসের কথা বলতে গেলে আরও কয়েকটি নাম অবধারিতভাবে চলে আসে:

ভীম চন্দ্র নাগ (১৮২৬): বউবাজারের এই দোকানটি বিখ্যাত তাঁদের ‘লেডিকেনি’ মিষ্টির জন্য। ভারতের বড়লাট লর্ড ক্যানিং-এর স্ত্রী লেডি ক্যানিং-এর সম্মানে এই মিষ্টিটি তৈরি করা হয়েছিল।

গিরিশ চন্দ্র দে ও নকুর চন্দ্র নন্দী (১৮৪৪): কড়াপাকের সন্দেশের জন্য এই দোকানটি আজও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

দিল্লির ‘ঘণ্টেওয়ালা’: উত্তর ভারতের প্রাচীন গৌরব

বাংলার বাইরে ভারতের মিষ্টির ইতিহাসে অন্যতম বড় নাম ছিল দিল্লির চাঁদনি চকের ‘ঘণ্টেওয়ালা’। ১৭৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দোকানটি মুঘল সম্রাট থেকে শুরু করে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু—সবার প্রিয় ছিল। দীর্ঘ ২২৫ বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে ২০১৫ সালে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।

উপসংহার

ভারতের এই প্রাচীন মিষ্টির দোকানগুলো কেবল খাবার বিক্রির জায়গা ছিল না, এগুলো ছিল সংস্কৃতির এক একটি স্তম্ভ। ব্রিটিশ আমলের দাপট থেকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম—সব কিছুরই সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলকাতার এই শতবর্ষী দোকানগুলো। আজ বাজারে হাজারো আধুনিক ব্র্যান্ড থাকলেও, ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে আজও মানুষ ফিরে যান সেই পুরনো কলকাতার অলিগলিতে।

আরও পড়ুন :Labour Day: ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস: শ্রমের মর্যাদা, অধিকার ও মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রার এক অনন্য ইতিহাস!!!

Join Our WhatsApp Group For New Update
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সবচেয়ে জনপ্রিয়