Double DeckerTrain:ট্রেনের জানলার সিট নিয়ে ছোটবেলার সেই কাড়াকাড়ি আজও আমাদের মনে অমলিন। তবে যদি সেই জানলাটি হয় মাটি থেকে বেশ কয়েক ফুট উঁচুতে, অর্থাৎ ট্রেনের দোতলায়? ভাবুন তো একবার— কানে প্রিয় সুর বাজছে, আর ওপর তলার বিশাল জানলা দিয়ে হু হু করে সরে যাচ্ছে দিগন্তবিস্তৃত মাঠ, পাহাড় কিংবা সমুদ্রের নীল জলরাশি। ভারতীয় রেলে এই স্বপ্নিল অভিজ্ঞতার নামই হলো ‘এসি ডবল ডেকার এক্সপ্রেস’।

অল্প সময়ে বেশি যাত্রী বহন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি এই ট্রেনগুলি এখন ভ্রমণের এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। দেখে নেওয়া যাক ভারতের জনপ্রিয় কিছু ডবল ডেকার রুট:
ভারতের জনপ্রিয় ডবল ডেকার রুটসমূহ
ভারতের নির্দিষ্ট কিছু রুটে এই বিশেষ পরিষেবা চালু রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
মুম্বই-আমেদাবাদ ডবল ডেকার এক্সপ্রেস: পশ্চিম ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বই এবং গুজরাটের আমেদাবাদের মধ্যে সংযোগকারী এই ট্রেনটি পর্যটক ও ব্যবসায়ী—উভয়ের কাছেই দারুণ জনপ্রিয়। এর বিশাল কাচের জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করা এক পরম তৃপ্তি।
দিল্লি-জয়পুর ডবল ডেকার এক্সপ্রেস: রাজধানী থেকে গোলাপি শহরে (Pink City) যাওয়ার এটিই সবচেয়ে রাজকীয় মাধ্যম। পর্যটকদের ভিড় এই রুটে সবচেয়ে বেশি থাকে, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে।
চেন্নাই-বেঙ্গালুরু ডবল ডেকার: দক্ষিণ ভারতের আইটি কর্মীদের লাইফলাইন এই ট্রেন। রাস্তার যানজট এড়িয়ে দ্রুত ও আরামদায়ক সফরের জন্য এর চেয়ে ভালো বিকল্প আর নেই।
বিশাখাপত্তনম-বিজয়ওয়াড়া এক্সপ্রেস: আপনি কি সমুদ্র আর পাহাড় একসঙ্গে দেখতে চান? তবে এই রুটটি আপনার জন্য। ট্রেনের ওপর তলা থেকে পূর্ব উপকূলের প্রাকৃতিক শোভা দেখার অভিজ্ঞতা আপনার স্মৃতির পাতায় রঙিন পালক হয়ে থাকবে।
হাওড়া-ধানবাদ ডবল ডেকার: বাংলার একদম কাছেই রয়েছে এই পরিষেবা। কলকাতা থেকে ঝাড়খণ্ডের খনি অঞ্চলে যাওয়ার জন্য এই ট্রেনটি এক সময় ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
সব রুটে কেন চলে না এই দোতলা ট্রেন?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কেন প্রতিটি রুটে ডবল ডেকার চালানো হয় না? এর পেছনে রয়েছে কিছু কারিগরি কারণ:
বৈদ্যুতিক তারের উচ্চতা: ডবল ডেকার ট্রেনের উচ্চতা সাধারণ ট্রেনের চেয়ে বেশি। তাই লাইনের ওপরের হাই-টেনশন তার বা ওভারহেড ইক্যুইপমেন্ট (OHE) নির্দিষ্ট উচ্চতায় থাকতে হয়।
প্ল্যাটফর্ম ও টানেল: অনেক পুরনো টানেল বা প্ল্যাটফর্মের ছাউনি নিচু হওয়ায় এই ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়।
ভারসাম্য: ট্রেনের গঠনগত ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট ট্র্যাকে এটি চালানো নিরাপদ।
ডবল ডেকার ট্রেনের বিশেষত্ব কী?
অধিক যাত্রী ধারণক্ষমতা: অতিরিক্ত কামরা না বাড়িয়েও প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী বহন করা সম্ভব।
আধুনিক অন্দরসজ্জা: এই ট্রেনগুলি সাধারণত সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক চেয়ার কার যুক্ত।
সাশ্রয়ী ও দ্রুত: এক্সপ্রেস ট্রেনের গতিতে গন্তব্যে পৌঁছে দেয় এবং তুলনামূলকভাবে টিকিটের দামও হাতের নাগালে।
উপসংহার
ট্রেন সফর মানেই একরাশ নস্টালজিয়া। আর সেই সফরের সঙ্গে যদি যোগ হয় ‘ভিউ ফ্রম দ্য টপ’, তবে তা সোনায় সোহাগা। আপনি যদি ভ্রমণপিপাসু হন এবং এখনও এই দোতলা ট্রেনে সওয়ার না হয়ে থাকেন, তবে আপনার বাকেট লিস্টে এটি অবশ্যই যোগ করুন। ওপরের তলায় বসে ভারতের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতিকে দেখার আনন্দ আপনার রেল ভ্রমণের সংজ্ঞাই বদলে দেবে।
পরের বার যখন টিকিট কাটবেন, চেষ্টা করবেন ওপর তলার জানলার ধারের সিটটি নিশ্চিত করতে— কারণ সেখান থেকেই দেখা যায় এক অন্য ভারত।
আরও পড়ুন:Fusion of Talent and Waste: মাত্র ৩০ হাজারে তৈরি সোলার গাড়ি দিচ্ছে ৬০ কিমি মাইলেজ!!!!





