ICSE Result 2026:বর্ধমান, ১ মে ২০২৬: আইসিএসই (ICSE) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল। মেধার লড়াইয়ে কার্যত অসাধ্য সাধন করে খবরের শিরোনামে পূর্ব বর্ধমানের নিপোবীথি দত্ত। ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯৯ (৯৯.৮ শতাংশ) নম্বর পেয়ে নিপোবীথি শুধু নিজের স্কুলের নাম উজ্জ্বল করেনি, বরং গোটা রাজ্যের মধ্যে সম্ভাব্য শীর্ষস্থান দখল করেছে। বর্ধমান সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের এই ছাত্রীর এমন অভাবনীয় সাফল্যে খুশির জোয়ার জেলাজুড়ে।
সাফল্যের চাবিকাঠি: গতানুগতিকতার বাইরে প্রস্তুতি
অনেকেই মনে করেন একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুখস্থ করাই বোধহয় সাফল্যের একমাত্র পথ। কিন্তু নিপোবীথির রণকৌশল ছিল আলাদা। তার কথায়, “সাফল্যের জন্য নিয়মিত প্র্যাকটিসের কোনো বিকল্প নেই। তবে আমি সময় ভাগ করে নমনীয়ভাবে পড়তাম। সাধারণত সন্ধ্যার দিকে বেশি মনোযোগ দিতাম আর ছুটির দিনে সকালে সময় বের করে নিতাম।”
পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রেফারেন্স বইয়ের খুঁটিনাটি ঝালিয়ে নেওয়া এবং নিয়মিত অনুশীলনী সমাধান করাই তাকে এই ‘পারফেক্ট’ স্কোরের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
মেধা ও মননের মেলবন্ধন
নিপোবীথির সাফল্যের ভিত তৈরি হয়েছে তার পরিবার থেকেই। তার বাবা অভিজ্ঞান দত্ত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক এবং মা মহাশ্বেতা রায় দত্ত বর্ধমান রাজ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপিকা। তবে বাবা-মায়ের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও নিপোবীথির জীবনের প্রধান অনুপ্রেরণা তার ঠাকুমা। শিক্ষাব্রতী পরিবারে বড় হওয়া এই ছাত্রীর লক্ষ্য এখন আরও বড়— ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নেওয়া।
বইয়ের নেশা ও বহুমুখী প্রতিভা
কেবলমাত্র পাঠ্যবই নয়, নিপোবীথির জগত জুড়ে আছে গান, নাচ এবং ছবি আঁকা। তবে তার সবথেকে প্রিয় সঙ্গী হলো গল্পের বই। সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদার সে অন্ধ ভক্ত। বই পড়ার নেশা এতটাই যে, ছোটবেলায় কোথাও বেড়াতে গেলেও ব্যাগ ভর্তি বই নিয়ে যেত সে। যার জন্য মায়ের কাছে মাঝে মাঝে বকাও খেতে হতো তাকে। আজ সাফল্যের দিনে সেই সব মধুর স্মৃতি রোমন্থন করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই কৃতি ছাত্রী।
এক নজরে নিপোবীথির সাফল্যের রসায়ন:
বৈশিষ্ট্য বিবরণ
প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৯ / ৫০০ (৯৯.৮%)
স্কুল বর্ধমান সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল
পছন্দের লেখক সত্যজিৎ রায় (ফেলুদা সিরিজ)
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা
সাফল্যের মন্ত্র নিয়মিত অনুশীলন ও রেফারেন্স বইয়ের পাঠ
আইসিএসই-র এই নজরকাড়া ফলাফল দেখে প্রতিবেশী থেকে শুরু করে জেলার শিক্ষক সমাজ— সকলেই আজ আপ্লুত। বর্ধমানের দত্ত বাড়িতে এখন উৎসবের মেজাজ। ৪ মে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই নিপোবীথির এই লড়াই যেন নতুন করে প্রমাণ করল যে, একাগ্রতা আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো লক্ষ্যই ছোঁয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন:Super El Niño: সুপার এল নিনোর অশনিসংকেত: উষ্ণ পৃথিবীর বুকে নতুন জলবায়ু সংকটের ছায়া!!!





