Purba Bardhaman:বর্ধমান প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে, সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যেমন JEE Main-এ সফল হতে গেলে ইংরেজি মাধ্যম বা বড় শহরের নামী কোচিং সেন্টারের ছায়া থাকা আবশ্যিক। কিন্তু সেই ধারণা যে সম্পূর্ণ ভুল, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন পূর্ব বর্ধমানের বলগনা এলাকার ভূমিপুত্র কুন্তল চৌধুরী। সোমবার প্রকাশিত জেইই মেনস-এর চূড়ান্ত ফলাফলে কুন্তল সারা রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন।
আকাশছোঁয়া সাফল্য
কুন্তলের প্রাপ্ত NTA স্কোর হলো ৯৯.৯৯৮৪৯০৮। এই স্কোর কেবল তার মেধার পরিচয় দেয় না, বরং তার নিরলস পরিশ্রম এবং লক্ষ্যের প্রতি স্থির থাকার প্রমাণ দেয়। তার এই সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার বলগনা গ্রাম থেকে শুরু করে গোটা বর্ধমান জেলায়।
কেন এই জয় স্পেশাল?
কুন্তল কোনো বড় শহরের হাই-ফাই পরিবেশে বড় হননি। বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেই তিনি জাতীয় স্তরের এই কঠিন পরীক্ষায় সেরাদের সেরা হয়েছেন।
অদম্য জেদ: বাংলা মাধ্যমে পড়লে কি বড় কিছু করা যায় না? কুন্তলের এই জয় সেই প্রশ্নকর্তাদের যোগ্য জবাব।
পরিশ্রমের ফল: রাত জেগে পড়াশোনা আর বিষয়ভিত্তিক গভীরতাই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
সাধারণ জীবনযাপন: সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও কুন্তল প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।
আগামীর দিশারি
কুন্তলের এই সাফল্য কেবল তার নিজের বা তার পরিবারের নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীর কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। সমাজমাধ্যমে তাকে নিয়ে এখন ধন্য ধন্য পড়ে গেছে। নেটিজেনরা বলছেন, “কুন্তল দেখিয়ে দিলেন যে মাধ্যম কোনো বাধা হতে পারে না যদি মেধা আর পরিশ্রম একবিন্দুতে মিলিত হয়।”
“সাফল্যের জন্য ভাষা নয়, বিষয়ের প্রতি স্বচ্ছ ধারণা এবং একাগ্রতাই শেষ কথা বলে।” — এই বার্তাই যেন ধ্বনিত হচ্ছে কুন্তলের জয়ে।
বর্ধমান আজ গর্বিত তার ঘরের ছেলের জন্য। আগামীতে আইআইটি (IIT) লক্ষ্য কুন্তলের, আর তার বর্তমান পারফরম্যান্স বলছে সেই লক্ষ্যও তিনি হাসিমুখে জয় করবেন।
কুন্তল চৌধুরীকে আমাদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভকামনা!
আরও পড়ুন:World Earth Day: বিশ্ব ধরিত্রী দিবস: ভবিষ্যৎ বাঁচাতে আজই সচেতন হোন!!!





