Jadavpur University:আপনি কি শারীরিক শিক্ষা বা স্পোর্টস ট্রেনার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান? উচ্চশিক্ষার প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ব্যাচেলর অফ ফিজিক্যাল এডুকেশন (B.P.Ed) কোর্সে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব টিচার এডুকেশন (NCTE) দ্বারা অনুমোদিত এই সম্মানজনক কোর্সটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো।
বিপিএড (B.P.Ed) কোর্সটি আসলে কী?
স্কুল বা কলেজ স্তরে ফিজিক্যাল এডুকেশন পড়ানো কিংবা স্পোর্টস টিচার হওয়ার জন্য বিপিএড ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক। এটি সম্পূর্ণ একটি আবাসিক (Residential) কোর্স, যার মেয়াদ ২ বছর।
এই কোর্সের রুটিন বেশ কঠোর এবং নিয়মতান্ত্রিক। প্রতিদিন ভোর ৫টা ৫০ মিনিট থেকে ক্লাস শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। তবে দীর্ঘ এই শিফটের মাঝে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বিরতির ব্যবস্থা থাকে।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি
ভর্তির জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত শিক্ষাগত ও ক্রীড়া যোগ্যতার যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে:
ফিজিক্যাল এডুকেশনে স্নাতক: কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম ৪৫% নম্বর নিয়ে ফিজিক্যাল এডুকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি (BPE) থাকতে হবে।
সাধারণ স্নাতক ও ক্রীড়া ব্যাকগ্রাউন্ড: যেকোনো বিষয়ে ন্যূনতম ৫০% নম্বরসহ ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে এবং তার সাথে স্কুল, কলেজ বা জাতীয় স্তরের কোনো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সার্টিফিকেট থাকা আবশ্যক।
বাধ্যতামূলক/ইলেক্টিভ বিষয়: যদি মূল ডিগ্রি অন্য বিষয়েও হয়, কিন্তু স্নাতক স্তরে ফিজিক্যাল এডুকেশন একটি বাধ্যতামূলক (Compulsory) বা ইলেক্টিভ (Elective) বিষয় হিসেবে থেকে থাকে, তাহলেও আবেদন করা যাবে।
ভর্তি পদ্বতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কোর্সে মেধার ভিত্তিতে সরাসরি ভর্তি নেওয়া হয় না। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি ধাপ পার করতে হয়:
১. বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক পরীক্ষা।
২. লিখিত প্রবেশিকা পরীক্ষা।
৩. প্রার্থীর পূর্বের অ্যাকাডেমিক স্কোর বা শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর।
আবেদন করবেন কীভাবে?
আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। নিচে আবেদনের ধারাবাহিক ধাপগুলো দেওয়া হলো:
ধাপ ১: প্রথমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট পোর্টালে অনলাইন আবেদনপত্রটি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র ও সার্টিফিকেটের স্ক্যান কপি আপলোড করুন এবং অনলাইনে প্রবেশিকা পরীক্ষার ফি জমা দিন।
ধাপ ৩: অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আবেদনপত্রের একটি প্রিন্ট আউট (Print Out) নিজের কাছে রেখে দিন।
ধাপ ৪: এবার ওই প্রিন্ট আউট কপিটির সাথে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রের স্ব-প্রত্যয়িত (Self-attested) নকল বা জেরক্স যুক্ত করে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে সরাসরি অথবা ডাকযোগে জমা দিয়ে আসতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা
বিবরণ শেষ তারিখ
অনলাইনে আবেদনপত্র ও ফি জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ মে, ২০২৬
প্রিন্ট আউট ও নথিপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২ জুন, ২০২৬
জরুরি টিপস: শেষ মুহূর্তের ভিড় বা কারিগরি ত্রুটি এড়াতে ৩১ মে-র আগেই অনলাইনের কাজ সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কোর্স ফি ও ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ফলো করুন।





