Earth Science Olympiad:বিশ্বমঞ্চে ফের ভারতের মুকুটে যুক্ত হলো গৌরবময় এক নতুন অধ্যায়। ইতালির তুরিন শহরে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ভূবিজ্ঞান (আর্থ সায়েন্স) অলিম্পিয়াডে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে ভারতীয় দল। বিশ্বের ৩৯টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সামগ্রিকভাবে সর্বোচ্চ পদক জিতে শীর্ষে উঠে এসেছে ভারত। এই সর্বভারতীয় সাফল্যের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র দুর্গাপুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সৌমিক মণ্ডল, যিনি একাই দুটি সোনা ও একটি রুপো জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
গত ২০ থেকে ২৭ অগস্ট তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে দেশের প্রায় ১৭,৮০০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে থেকে তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রথমে ২৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়। এরপর গুজরাটের ভদোদরা এমএস বিশ্ববিদ্যালয় ও চেন্নাইয়ে দীর্ঘ কঠোর প্রশিক্ষণের পর মূল পর্বের জন্য চূড়ান্ত ভারতীয় দল তুরিনে পাড়ি দেয়।
প্রতিযোগিতায় লিখিত এবং প্র্যাক্টিকাল উভয় বিভাগেই অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম সোনাটি অর্জন করেন সৌমিক। এরপর আন্তর্জাতিক যৌথ ফিল্ড ইনভেস্টিগেশনে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে আসে দ্বিতীয় সোনার পদক। পাশাপাশি, ভূবিজ্ঞান প্রজেক্ট বিভাগে দারুণ প্রদর্শনের সুবাদে তিনি একটি রুপোর পদকও নিজের ঝুলিতে ভরে নেন। আবহাওয়া বিজ্ঞান, ভূ-পদার্থবিদ্যা, সমুদ্র বিজ্ঞান এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের মতো জটিল ও কঠিন সব বিষয়ে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়ে সামগ্রিকভাবে ভারতীয় দল প্রতিযোগিতায় মোট ন’টি পদক (চারটি সোনা, তিনটি রুপো ও দুটি ব্রোঞ্জ) জয় করে।
দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের এ-জোন অঞ্চলের বাসিন্দা সৌমিকের এই সাফল্যে স্বভাবতই আনন্দিত তাঁর পরিবার ও পুরো অঞ্চল। বেসরকারি সংস্থার কর্মী বাবা কৌশিক মণ্ডল ও গৃহবধূ মা মৌসুমি মণ্ডলের সন্তান সৌমিকের এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর শিক্ষকমহলও। সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারের এই মেধাবী ছাত্র ভবিষ্যতে আইআইটি থেকে জিও-কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়াশোনা করতে এবং এই কঠিন বিষয় নিয়েই গবেষণা চালিয়ে যেতে চান।
ইতিমধ্যেই দিল্লির পৃথ্বী ভবনে কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রানা এই বিজয়ী তরুণ প্রতিভাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানিয়েছেন। সৌমিকের এই অভাবনীয় সাফল্য আগামী দিনে দেশের আরও বহু কৃতি ছাত্রছাত্রীকে বিজ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করবে বলেই বিশ্বাস ওয়াকিবহাল মহলের।
আরও পড়ুন:Chilukuri Santhamma: ৯৭ বছরের জীবন, অবসরকে যিনি দেখেন নতুন শিক্ষার শুরু হিসেবে!!!








