Homeস্বাস্থ্যBeyond Chemistry:গন্ধের রূপকথা থেকে বিজ্ঞানের অলিগলি, স্মেল ট্রেনিং ও মগজের ঘ্রাণপুরাণ!!!

Beyond Chemistry:গন্ধের রূপকথা থেকে বিজ্ঞানের অলিগলি, স্মেল ট্রেনিং ও মগজের ঘ্রাণপুরাণ!!!

গন্ধের রূপকথা থেকে বিজ্ঞানের অলিগলি: স্মেল ট্রেনিং ও মগজের ঘ্রাণপুরাণ

গন্ধের আসল ঠিকানা কোথায়? শুধুই কি রসায়নের পরীক্ষাগারে অণুর ওঠানামায়, নাকি আমাদের অনুভবের চোরাগলি আর ফেলে আসা স্মৃতির ভাঁজে? উত্তরটা বোধহয় দু’টিতেই। পুরনো বইয়ের পাতা উল্টোতেই থমকে দাঁড়ানো শৈশব, ভেজা মাটির খাঁটি সুবাসে মনে পড়ে যাওয়া কোনও এক বৃষ্টিভেজা বিকেল কিংবা এক কাপ কড়া কফির সুবাসে ফুটে ওঠা অলস রবিবারের গল্প— গন্ধ শুধুই এক শারীরিক অনুভূতি নয়, এ যেন অতীতের এক টাইম মেশিন। রূপ, রস, শব্দ আর স্পর্শের কোলাহলে গন্ধ চিরকালই খানিকটা আড়ালে থাকা এক অন্তরালবর্তী পথচারী। অথচ এই অবহেলিত ইন্দ্রিয়টির গুরুত্ব যে মানবশরীরে ও মস্তিষ্কে কতটা গভীর, তা আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্র এখন হাড়হাড় টের পাচ্ছে।
সাহিত্যের পাতা থেকে শুরু করে প্রাচীন দর্শন এবং আজকের নিউরোসাইন্স— গন্ধের এই মহিমা স্বীকার করে নিয়েছে সর্বস্তরে। সাংখ্য দর্শনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “শব্দস্পর্শরূপরসগন্ধানাং পৃথিবী গন্ধবতী”। অর্থাৎ, পঞ্চভূতের মধ্যে পৃথিবীর নিজস্ব মূল গুণটিই হলো গন্ধ। গন্ধহীন জীবন আদতে বর্ণহীন। আর এই ধূসর জীবনে আবার রঙ ফেরাতে, এমনকি মস্তিষ্কের ঝিমিয়ে পড়া স্নায়ুকে সজীব রাখতে বিশ্বজুড়ে এখন আলোড়ন ফেলছে এক অদ্ভুত চিকিৎসাপদ্ধতি— ‘স্মেল ট্রেনিং’ বা ঘ্রাণের অনুশীলন।

১. সাহিত্যের রোমান্স ও আয়ুর্বেদের ইতিহাস: ঘ্রাণের স্মৃতি-উৎস

ঘ্রাণ ও মানুষের মনস্তত্ত্বের যে নিবিড় ও অনুভূতির সম্পর্ক, তা অনেক আগেই আঁচ করেছিলেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাস। তিনি যখন লেখেন— “কাঁচা বাতাবীর মতো সবুজ ঘাস— তেম্নি সুঘ্রাণ”, তখন তা শুধুই উপমা থাকে না, যেন এক সবুজ সুবাসে বিমোহিত হয়ে কবি ঘাসের ঘ্রাণকে হরিৎ মদের মতো গ্লাসে ঢেলে পান করতে চান।
আবার সুকুমার রায়ের ‘গন্ধবিচার’ কবিতার কথা ধরা যাক। যেখানে বৃদ্ধ নাজির এসে রাজামশাই বা মন্ত্রীমশাইয়ের জামায় নাক ঠেকিয়ে সূক্ষ্মভাবে গন্ধ শুঁকে বিচার করতেন। হাস্যরসের আড়ালে সুকুমার রায় মূলত এটিই ইঙ্গিত করেছিলেন যে, ঘ্রাণশক্তি শুধুই একটি শারীরিক প্রক্রিয়া নয়, এর সাথে যুক্ত রয়েছে তীব্র বিচারবুদ্ধি এবং মনোযোগ।

প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য

আজকের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান যাকে ‘স্মেল থেরাপি’ বা ‘অলফ্যাক্টরি ট্রেনিং’ নাম দিয়ে নতুন মোড়কে সামনে আনছে, তার শিকড় কিন্তু প্রোথিত রয়েছে হাজার বছরের পুরনো ভারতীয় ঐতিহ্যে।
  • চরকসংহিতা ও সুশ্রুতসংহিতা: প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পঞ্চকর্মের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে ‘নস্য’ বা ‘নাস্য’ চিকিৎসার বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে। ভেষজ তেল, ঘি কিংবা বিভিন্ন পাতার রস দিয়ে নাকের ভেতর স্প্রে বা ঘ্রাণ নেওয়ার মাধ্যমে মাথার স্নায়ুকে সক্রিয় করা হতো।
  • মানসিক ও শারীরিক নিরাময়: মাথাব্যথা, সাইনাসের সমস্যা, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি এবং বুদ্ধিমত্তা ক্ষুরধার করতে সুগন্ধি ও ভেষজ উপাদানের ব্যবহার (যা আজকের অ্যারোমাথেরাপি) প্রাচীন ভারতে বহুল প্রচলিত ছিল।

২. মহামারী, ‘অ্যানোসমিয়া’ এবং স্মেল থেরাপির পুনর্জন্ম

দীর্ঘদিন ধরে ঘ্রাণশক্তিকে আমরা অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয় বলে মনে করতাম। কিন্তু চিত্রটা একঝটকায় বদলে দিল নোভেল করোনাভাইরাস। কোভিডের সময় বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ হঠাৎ করে গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি হারিয়ে ফেললেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায়:
  • অ্যানোসমিয়া (Anosmia): ঘ্রাণশক্তি সম্পূর্ণভাবে চলে যাওয়া।
  • হাইপোসমিয়া (Hyposmia): গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা আংশিক কমে যাওয়া।
করোনাকালের আগে একসঙ্গে এত মানুষের ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলার নজির সাম্প্রতিক ইতিহাসে ছিল না। গবেষণা দেখা গেল, যারা গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন, তারা মানসিক অবসাদে ভুগছেন, এমনকি খাদ্যের স্বাদ এবং পুরনো স্মৃতি রোমন্থনের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছেন। এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির সমাধান খুঁজতেই গবেষকেরা আবার নতুন করে নজর দিলেন ‘স্মেল ট্রেনিং’ থেরাপির দিকে।

৩. মগজের গন্ধবিচার: অলফ্যাক্টরি সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?

গন্ধ কীভাবে মানুষের মস্তিষ্ক ও আবেগকে পুতুলনাচের মতো নিয়ন্ত্রণ করে, তা বুঝতে হলে মানব মস্তিষ্কের অলফ্যাক্টরি সিস্টেমের গঠন অনুধাবন করা প্রয়োজন।
কলকাতা নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রণবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, গন্ধ মূলত প্রোটিন বা রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি একপ্রকার সুক্ষ্ম অণু (Molecule)।

কেন ঘ্রাণ অন্য চার ইন্দ্রিয় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা?

আমাদের শরীরের বাকি চার ইন্দ্রিয়— দর্শন (চোখ), শ্রবণ (কান), স্পর্শ (ত্বক) এবং স্বাদ (জিহ্বা)— তাদের সংগৃহীত তথ্য প্রথমে মস্তিষ্কের প্রধান রিলে স্টেশন বা প্রসেসিং সেন্টার ‘থ্যালামাস’ (Thalamus)-এ পাঠায়। সেখানে তথ্য বাছাই হওয়ার পর তা মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনা করার অংশে যায়।
কিন্তু ঘ্রাণতন্ত্র বা অলফ্যাক্টরি সিস্টেমের ক্ষমতা অনন্য। এটি থ্যালামাসকে প্রায় পাশ কাটিয়ে (Bypassing Thalamus) সরাসরি বার্তা পাঠিয়ে দেয় মস্তিষ্কের আদিম ও প্রাণকেন্দ্র ‘লিম্বিক সিস্টেম’ (Limbic System)-এ। লিম্বিক সিস্টেমের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো:
১. অ্যামিগডালা (Amygdala): যা মানুষের ভয়, প্রেম, আনন্দ, রাগ ও বিষাদের মতো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus): যা মানুষের স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে ও স্মৃতি পুনর্গঠন করে।
এই সরাসরি যোগাযোগের কারণেই কোনও বিশেষ সুবাস পাওয়ার সাথে সাথে মুহূর্তের মধ্যে বহু বছর আগের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি আমাদের চোখে জীবন্ত হয়ে ওঠে।

৪. ‘প্রুস্ত এফেক্ট’ ও খিদে-হরমোনের মনস্তত্ত্ব

ফরাসি সাহিত্যিক মার্সেল প্রুস্ত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘রিমেমব্রেন্‌স অফ থিংস পাস্ট’-এ ঘ্রাণ ও স্মৃতির এই অলৌকিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছিলেন। উপন্যাসের মূল চরিত্র চায়ের কাপে এক টুকরো কেক ভিজিয়ে মুখে দিতেই তার শৈশবের দিনগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মনস্তত্ত্বের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় ‘প্রুশিয়ান মেমোরি ফেনোমেনন’ বা ‘প্রুস্ত এফেক্ট’ (Proust Effect)

ঘ্রাণেন অর্ধভোজনম

বাংলায় প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে— ‘ঘ্রাণেন অর্ধভোজনম’। অর্থাৎ গন্ধ শুঁকলেই অর্ধেক পেট ভরে যায়। এর পেছনেও রয়েছে খাঁটি বিজ্ঞান। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস (Hypothalamus) অংশটি বিভিন্ন গন্ধ দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে মানবশরীরের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণ করে। সুস্বাদু খাবারের সুবাস মস্তিষ্কে পৌঁছালে তা শুধু খাওয়ার ইচ্ছেই জাগায় না, বরং মস্তিষ্কে সেরোটোনিনডোপামিন নামক হ্যাপি হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে মানসিক চাপ একলহমায় কমিয়ে দেয়।

৫. স্মেল ট্রেনিং বা ঘ্রাণ অনুশীলনের ব্যবহারিক পদ্ধতি

স্মেল ট্রেনিং কিন্তু স্রেফ বাতাস থেকে গন্ধ নেওয়া নয়। এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত মস্তিষ্ক-চর্চা। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট চারটি প্রাথমিক গন্ধ বা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হয়:
গন্ধের ধরনউৎস উপাদানমস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া
মিষ্টি (Sweet)গোলাপ (Rose)মন শান্ত করে, আনন্দ বাড়ায়
টক/সাইট্রাস (Citrus)লেবু (Lemon)স্নায়ু সজীব করে, মনোযোগ বাড়ায়
ঝাঁঝালো (Pungent)ইউক্যালিপটাস (Eucalyptus)শ্বাসপথ পরিষ্কার করে, সজাগ ভাব আনে
মশলাদার (Spicy)লবঙ্গ (Clove)স্নায়ুর উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে

প্রশিক্ষণ বা থেরাপির ধাপসমূহ:

১. একটি শান্ত পরিবেশে প্রতিটি এসেনশিয়াল অয়েলের শিশি নাকের ১ থেকে ২ ইঞ্চি নীচে ধরতে হবে।
২. স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড ধীরস্থিরে সেই গন্ধ শুকতে হবে।
৩. একটি গন্ধ নেওয়া শেষ হলে অন্তত ১০ সেকেন্ডের বিরতি নিতে হবে।
৪. দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ বার এই থেরাপি পুনারাবৃত্তি করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: গন্ধ শুঁCount করার সময় মনে মনে সেই বস্তুটির (যেমন: গোলাপ ফুল বা লেবু) ছবি কল্পনা করতে হবে এবং অতীতের স্মৃতির সাথে সেটিকে মেলানোর চেষ্টা করতে হবে। একেই বলে মগজের ‘রোমন্থন’।

বিজ্ঞান কীভাবে কাজ করে? (Neuroplasticity)

চিকিৎসক প্রণবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রতিনিয়ত এভাবে নিয়ম মেনে ঘ্রাণ নিলে মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হয়। এই অলৌকিক ক্ষমতাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ (Neuroplasticity) বা ‘নিউরোরিজেনারেশন’ (Neuro-regeneration)। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অলফ্যাক্টরি স্নায়ুগুলো ধীরে ধীরে আবার সজীব হয়ে ওঠে।

৬. বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা

আজকের বিশ্বজুড়ে স্মেল থেরাপির প্রয়োগ শুধু কোভিড-পরবর্তী চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং অ্যালঝাইমার্স, ডিমেনশিয়া এবং পার্কিনসন্স রোগ প্রতিরোধে এটি এক অন্যতম আধুনিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
  • জার্মানির ড্রেসডেন বিশ্ববিদ্যালয়: ২০০৯ সালে ড্রেসডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ টমাস হামেল প্রথম বিশ্বকে ‘অলফ্যাক্টরি ট্রেনিং’-এর রূপরেখা দেন। তাঁর গবেষণাই বর্তমান স্মেল থেরাপির মূল ভিত্তি।
  • যুক্তরাজ্যের ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়: পার্কিনসন্স রোগীদের শুরুর দিকেই ঘ্রাণশক্তি কমে যায়। গবেষকরা স্মেল ট্রেনিংয়ের সাহায্যে স্নায়ুর ক্ষয় রোধ করার চেষ্টা করছেন।
  • সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়: বয়স্ক ব্যক্তিদের স্মৃতিভ্রম আটকানো এবং মস্তিষ্কের আবেগের কেন্দ্র ‘হিপ্পোক্যাম্পাস’-কে পুনরুজ্জীবিত করতে ঘ্রাণ থেরাপির ট্রায়াল চালাচ্ছেন।
  • আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়: হার্ভার্ডের গবেষকেরা স্মেল ট্রেনিংয়ের সাথে fMRI (Functional MRI) ইমেজিং যুক্ত করে দেখছেন, সুনির্দিষ্ট গন্ধ শুঁকলে মস্তিষ্কের মেধা ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রক ‘গ্রে ম্যাটার’ (Grey Matter)-এ কীভাবে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।

৭. আধুনিক চিকিৎসকদের মতামত ও সীমাবদ্ধতা

তবে স্মেল থেরাপি কি সব রোগের জাদুকরী সমাধান? চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনই অতটা অলৌকিক প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি নয়।
কলকাতার খ্যাতনামা ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞ ডঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য সতর্ক করে দিয়ে জানান, স্মেল থেরাপি শুরু করার আগে রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি।
  • যদি নাকে পলিপ (Nasal Polyp) থাকে, সাইনুসাইটিস বা ফ্যারিঞ্জাইটিস থাকে, তবে শুধুই গন্ধ শুঁকে সমাধান সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে মেজরিটি কেসে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
  • কিছু মানসিক বিকারগ্রস্ত রোগী থাকেন, যাদের বিকৃত ঘ্রাণ অনুভূতি হয় (Parosmia)— তাঁরা গোলাপের সুবাস পেলেও পচা মরাদেহের গন্ধ পান। তাঁদের চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।
  • তাছাড়াও, যারা অতিরিক্ত রাসায়নিক কসমেটিক্স বা তীব্র পারফিউম ব্যবহার করেন, তাঁদের অলফ্যাক্টরি স্নায়ু সময়ের সাথে অবশ হয়ে যেতে পারে।
ডাঃ প্রণবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, “মাথায় বা মাথায় মারাত্মক আঘাতের কারণে যদি অলফ্যাক্টরি নার্ভ ছিঁড়ে বা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়, তবে স্মেল ট্রেনিং দিয়ে তা ফেরানো অসম্ভব। এটি প্রধানত ভাইরাসজনিত সংক্রমণ বা বয়সের কারণে স্নায়ু শিথিল হয়ে যাওয়ার চিকিৎসায় দারুণ কার্যকরী।”

৮. সমাপ্তি: সুবাসের আলোয় নতুন ভোরের প্রত্যাশা

স্মেল থেরাপি বা ঘ্রাণ চিকিৎসা এখনও বিশ্বজুড়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণার স্তরে রয়েছে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয়ের এই হারিয়ে যাওয়া সদস্যটি আমাদের মগজ, মেধা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
আজকের দ্রুতগামী জটিল জীবনযাত্রায় যেখানে অবসাদ, মানসিক চাপ এবং অ্যালঝাইমার্স বা ডিমেনশিয়ার মতো স্নায়বিক রোগ মহামারী আকার ধারণ করছে, সেখানে প্রকৃতির সামান্য গোলাপ, লেবু, লবঙ্গ আর ইউক্যালিপটাসের নির্যাস আমাদের মস্তিষ্ককে সতেজ ও সংবেদনশীল রাখতে এক মহৌষধ হয়ে উঠতে পারে। গন্ধ কেবল অণুর খেলা নয়, গন্ধ হলো আমাদের অস্তিত্বের এক সুবাসিত ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসকে আঁকড়ে ধরেই বিজ্ঞানের হাত ধরে এগোচ্ছে ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞান।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সবচেয়ে জনপ্রিয়