Basanti Student Selima:দারিদ্র্য যার নিত্যসঙ্গী, মাটির কাঁচা ঘরে যার বাস, স্বপ্ন দেখতেও যাকে দশবার ভাবতে হয়—সুন্দরবনের সেই সাধারণ কিশোরীই আজ বিশ্ববাংলা তথা সমগ্র দেশের দরবারে তুলে ধরল নিজের নাম। ১৫ আগস্ট দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর সেলিমা মোল্লা। তবে এই সাফল্যের আনন্দের মাঝেও ঘনিয়ে এসেছিল অনিশ্চয়তার মেঘ, যা কাটিয়ে শেষমেশ দিল্লির ট্রেনে চেপে বসেছে নবম শ্রেণির এই কৃতী ছাত্রী।
বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ ঋতু ভকত হাই স্কুলের ছাত্রী সেলিমার বাবা পেশায় একজন সাধারণ দিনমজুর। অর্থাভাব এতটাই যে, গত জুন মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মাই ভারত’ (My Bharat) দপ্তর আয়োজিত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার পরও পরিবারে নেমে এসেছিল দুশ্চিন্তা। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল—“Role of AI in building Bikshit Bharat by 2047” (২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভূমিকা)। ইংরেজিতে লেখা নিখুঁত প্রবন্ধ দিয়ে দেশজুড়ে বাজিমাত করে সেলিমা, এবং মেলে লালকেল্লায় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার মর্যাদাপূর্ণ নিমন্ত্রণপত্র।
কিন্তু আমন্ত্রণপত্র এলেও সেখানে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচের কোনো আর্থিক সুরাহা ছিল না। অভাবের সংসারে ট্রেন টিকিট কাটার মতো সামান্য অর্থও ছিল না দিনমজুর বাবার কাছে। ফলে আমন্ত্রণ পেয়েও থমকে গিয়েছিল দিল্লির সফর। অবশেষে খবর পেয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হয় সহায়তার হাত। ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেলিমা ও তার পরিবারের যাতায়াতের টিকিট কেটে দিলে দূর হয় সব বাধা।
মাটির ঘরে আনন্দের আলো জ্বললেও পরিবারের মনে রয়ে গেছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। সেলিমার বাবার আক্ষেপ, একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও মেলেনি একটি পাকা ঘর। তবে মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তাঁদের পরিবারকেই নয়, সমগ্র সুন্দরবনবাসীকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। অভাবকে দূরে ঠেলে মেধার জোরে কীভাবে সব বাধা অতিক্রম করা যায়, সে কথাই নতুন করে প্রমাণ করল বাসন্তীর সেলিমা।





