Positive বার্তা (বাংলা)

A teamwork initiative of Enthusiastic people using Social Media Platforms

Home ব্লগ Oshela Fish:৩০ বছর পর হারানো গৌরবের প্রত্যাবর্তন!!!

Oshela Fish:৩০ বছর পর হারানো গৌরবের প্রত্যাবর্তন!!!

0

Oshela Fish :একটা সময় ছিল যখন নৈনিতাল, ভীমতাল, সাত্তাল এবং নৌকুচিয়াতালের মতো বিখ্যাত দিঘিগুলো অসেলা মাছে পরিপূর্ণ থাকত। কিন্তু পরিবেশগত পরিবর্তন এবং উপযুক্ত আবাসের অভাবে গত তিন দশকে এই মাছগুলো কার্যত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। গবেষক ও স্থানীয়দের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আবারও এই মাছের চারা হিমালয়ের হিমশীতল জলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

স্নো ট্রাউট বা অসেলা মাছের বৈশিষ্ট্য

স্নো ট্রাউট সাধারণ কোনো মাছ নয়; এটি হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের এক অপরিহার্য অংশ। এদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন:

স্বচ্ছ ও শীতল জল: দূষণমুক্ত স্বচ্ছ টলটলে জল এই মাছের প্রধান আবাসন।

অক্সিজেনের প্রাচুর্য: যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত বেশি, সেখানেই এরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে।

নির্দিষ্ট তাপমাত্রা: হিমালয়ের পাহাড়ি ঝরনা ও দিঘির বিশেষ তাপমাত্রা এদের বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ।

কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল উদ্যোগ

এই মাছটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তাঁদের এই উদ্যোগটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত:

বিশেষ খাঁচায় চাষ: সরাসরি বড় জলাশয়ে না ছেড়ে, গবেষকরা জলের ভেতরেই বিশেষ ধরনের খাঁচা তৈরি করে সেখানে মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও প্রাথমিক লালন-পালন শুরু করেন।

চারা মাছ অবমুক্তকরণ: সম্প্রতি নৈনি লেকের জলে প্রায় ৩০০টি চারা মাছ ছাড়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: মাছগুলো যাতে প্রাকৃতিক পরিবেশে এবং সঠিক তাপমাত্রায় বেড়ে উঠতে পারে, তার জন্য জলের একটি নির্দিষ্ট অংশ বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও স্থানীয় প্রত্যাশা

স্নো ট্রাউট বা অসেলা মাছ কেবল একটি মাছ নয়, বরং নৈনিতালের জলের বাস্তুতন্ত্রের (Ecosystem) নির্দেশক। এই মাছের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দিঘির জলের গুণমান ভালো আছে।

পরিবেশগত ভারসাম্য: এই মাছ ফিরে আসায় হ্রদগুলোর জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে।

পর্যটন ও স্থানীয় আবেগ: স্থানীয় মানুষ এবং পরিবেশবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অসেলা মাছের প্রত্যাবর্তন হিমালয়ের হ্রদগুলোর হারানো সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে দেবে।

উপসংহার

হিমালয়ের দিঘিতে ৩০ বছর পর স্নো ট্রাউটের এই প্রত্যাবর্তন পরিবেশ সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। যদি এই ৩০০টি চারা মাছ সফলভাবে বেড়ে ওঠে এবং বংশবৃদ্ধি করতে পারে, তবে অদূর ভবিষ্যতে নৈনিতাল ও তার আশেপাশের দিঘিগুলো আবারও ‘হিমালয়ের মাছ’-এ ভরে উঠবে। গবেষকদের এই নিরলস পরিশ্রম হিমালয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

আরও  পড়ুন:Japan: ‘ইনেমুরি’: কাজের ফাঁকে ছোট্ট ঘুমেই বাড়ছে কর্মক্ষমতা, কমছে মানসিক চাপ!!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here