Khadan Dungri:অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘উলুরু’ পাহাড়ের কথা আমরা অনেকেই জানি, যার রং পরিবর্তনের দৃশ্য বিশ্ববিখ্যাত। ভারতের ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি ব্লকের ওদলচুয়া গ্রামে অবস্থিত এই খাদান ডুংরি ঠিক তেমনই এক বিরল প্রাকৃতিক বিস্ময়।

কেন এটি অনন্য?
সাধারণত পাহাড় মানেই ধূসর পাথর বা সবুজের সমারোহ। কিন্তু খাদান ডুংরির বিশেষত্ব হলো এর পাথরের বিচিত্র বর্ণ। পাহাড়ের গায়ে পাথরগুলো যেন কেউ নিপুণ হাতে লাল, নীল, সোনালি আর হলুদ রঙে সাজিয়ে দিয়েছে। সূর্যের আলো যখন এই পাথরের স্তরে পড়ে, তখন চারপাশ এক মায়াবী ও অপার্থিব সৌন্দর্যে ভরে ওঠে।
ভ্রমণের রোমাঞ্চ: অরণ্য চিরে রঙিন গন্তব্যে
খাদান ডুংরি পৌঁছনোর পথটি নিজেই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যাওয়া ‘গা ছমছমে’ রাস্তা আপনার ভ্রমণের উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
প্রাকৃতিক ঝরনা: পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলেছে একটি ছোট পাহাড়ি ঝরনা। পাথরের বৈচিত্র্যময় রঙের সঙ্গে ঝরনার স্বচ্ছ জল মিলে এক অপরূপ জলছবি তৈরি করে।
সূর্যাস্তের মায়া: বিকেলে যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, তখন পাহাড়ের রংগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। পড়ন্ত রোদে পাথরের সোনালি আভা এক স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।

কীভাবে যাবেন?
শহর কলকাতার খুব কাছেই হওয়ায় দু-দিনের ছুটিতে অনায়াসেই ঘুরে আসা যায় এই রঙিন পাহাড় থেকে।
মাধ্যম পথনির্দেশ
ট্রেন হাওড়া থেকে ট্রেনে পৌঁছে যান ঝাড়গ্রাম স্টেশনে।
সড়কপথ ঝাড়গ্রাম শহর থেকে বেলপাহাড়ি হয়ে ওদলচুয়া গ্রাম প্রায় ৪৫-৫৫ কিমি।
লোকাল গাইড ওদলচুয়া গ্রাম থেকে সামান্য পথ জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। পথ চিনতে অসুবিধা হলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা খুব সাহায্য করেন।
বিশেষ টিপস: আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হন এবং ভিড় এড়িয়ে নির্জনে সময় কাটাতে চান, তবে ঝাড়গ্রামের এই ‘রঙিন পাহাড়’ আপনার তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত। লাল মাটির রুক্ষতার মাঝে রঙের এই খেলা আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
বাংলার পর্যটন মানচিত্রে খাদান ডুংরি এখন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন, কারণ আপনার অপেক্ষায় রয়েছে ভারতের একমাত্র ‘রেনবো মাউন্টেন‘!
আরও পড়ুন:বাংলা সনের প্রকৃত প্রবর্তক মহারাজা শশাঙ্ক: ইতিহাসের আলোয় বঙ্গাব্দের উত্থান!!!





