Purulia’s Smart Move: শীতের মরশুমে পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করছে পুরুলিয়া। আর এই ‘ট্যুরিস্ট সিটি’র যানজট সমস্যা মেটাতে এবং বেআইনি টোটোর দৌরাত্ম্য রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুরুলিয়া পুরসভা। এবার শহরের প্রতিটি বৈধ টোটোর গায়ে থাকবে নিজস্ব কিউআর কোড (QR Code)। এর মাধ্যমে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে প্রশাসন।
কেন এই কিউআর কোড?
পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসক তথা সদর মহকুমাশাসক উৎপলকুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে এই নতুন প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্যগুলি হলো:
তথ্যপঞ্জি তৈরি: শহরে ঠিক কতগুলি বৈধ টোটো চলাচল করে, তার সঠিক হিসাব রাখা।
যাত্রী সুরক্ষা: কোনো চালক অতিরিক্ত ভাড়া চাইলে বা অভব্য আচরণ করলে যাত্রীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি পুরসভায় অভিযোগ জানাতে পারবেন।
শনাক্তকরণ: গ্রামীণ এলাকার টোটো এবং শহরের টোটোকে সহজেই আলাদা করা যাবে।
নতুন ট্রাফিক নিয়ম ও রুট ম্যাপ
পুরুলিয়া শহরের শ্রী ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা কমাতে জাতীয় সড়ক এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
২৫টি নির্দিষ্ট রুট: শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে মোট ২৫টি ছোট রুট তৈরি করা হয়েছে।
জাতীয় সড়কে নিষেধাজ্ঞা: টোটোগুলি জাতীয় সড়ক এড়িয়ে শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তা দিয়ে চলাচল করবে।
শহর বনাম গ্রাম: মকর সংক্রান্তির পর থেকে গ্রামীণ টোটো শহরে এবং শহরের টোটো গ্রামে যাতায়াত করতে পারবে না। তবে রোগীদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।
যাত্রী সংখ্যা: একটি টোটোতে সর্বোচ্চ ৫ জন যাত্রী উঠতে পারবেন। এর বেশি যাত্রী থাকলে ট্রাফিক পুলিশ ‘স্পট ফাইন’ বা জরিমানা করবে।
ভাড়ার তালিকা ও পার্কিং ব্যবস্থা
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ থেকে ৫ কিলোমিটারের রুটগুলির জন্য নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে শহরের বিভিন্ন মোড়ে স্ট্যান্ড তৈরি করা হচ্ছে।
প্রধান স্ট্যান্ড ও পার্কিং জোন:
সাহেব বাঁধের জগার্স পার্কের বিপরীতে।
রাঁচি রোড ও বরাকর রোড।
পুরুলিয়া-বাঁকুড়া রাস্তা।
দুলমি এবং স্টেশন সংলগ্ন কাটিন পাড়া।
পরিসংখ্যান একনজরে
আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (RTO) গত ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় মোট ৭,২৬৯টি টোটো রয়েছে। তবে শহরে এই সংখ্যাটি নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। নতুন এই কিউআর কোড রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে আসল সংখ্যাটি সামনে আসবে। ভোটার কার্ড ও টোটোর রেজিস্ট্রেশন যাচাই করেই এই কোড দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসকের বার্তা: “এই কাজের মধ্য দিয়ে যানজট রোখার পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে। ভবিষ্যতে এই তথ্যপঞ্জি টোটো সংক্রান্ত অন্যান্য কাজেও সহায়ক হবে।”
পুরুলিয়া পুরসভার এই আধুনিক পদক্ষেপ শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় এক নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা।
আরও পড়ুন: সিটিসি (CTC) নাকি পাতা চা (Orthodox): আপনার কাপে কোনটি থাকা জরুরি





