Positive বার্তা (বাংলা)

A teamwork initiative of Enthusiastic people using Social Media Platforms

Homeব্লগ৮০০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপে চমক! সরকারি দফতর পরিষ্কারে কেন্দ্রের রেকর্ড আয় —...

৮০০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপে চমক! সরকারি দফতর পরিষ্কারে কেন্দ্রের রেকর্ড আয় — চার বছরে স্ক্র্যাপ বিক্রিতেই রাজকোষে ঢুকল ৪,১০০ কোটি

Centre Earns: সরকারি দফতরের ঘর জুড়ে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা বাতিল ফাইল, ভাঙা চেয়ার, অচল আলমারি কিংবা নষ্ট ইলেকট্রনিক্স—এসবই এত দিনে যেন সাধারণ দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সেই ‘নিত্যদিনের দৃশ্য’-ই যে এক সময় সরকারের জন্য জ্যাকপটে পরিণত হবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অফিসঘরগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ শুরু হওয়ার পরে যে বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ পাওয়া গেছে, তার বিক্রি থেকেই চলতি বছরেই সরকারের হাতে এসেছে ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। শুধু তাই নয়, গত চার বছরের হিসেব ধরলে কেন্দ্র পেয়েছে অবিশ্বাস্য ৪,১০০ কোটি টাকা, যা দেশের বহু উচ্চব্যয়ের প্রকল্পের বাজেটকেও ছাপিয়ে গেছে।

এ বছর অক্টোবর মাসজুড়ে চালানো এই সাফাই অভিযানের ফলে সরকারি দফতরগুলিতে নতুন করে খালি হয়েছে ২.৩২ কোটি বর্গফুট জায়গা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রশাসনে এটি এক বিরল উদাহরণ—যেখানে শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই আর্থিক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছিল।

স্ক্র্যাপ সাফাইতেই কোটি কোটি টাকা—অঙ্ক দেখে বিস্মিত প্রশাসন

কেন্দ্রীয় প্রশাসনের আধিকারিক সূত্রের খবর, ২ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫৪টি মন্ত্রক এবং একাধিক বিদেশি মিশন-সম্পর্কিত সরকারি দফতরে সাফাই অভিযানে উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য পরিমাণ স্ক্র্যাপ। শুধু বাতিল কাগজপত্রই নয়—পুরনো চেয়ার-টেবিল, মরচেধরা আলমারি, ভাঙাচোরা ফটোকপি মেশিন, অকেজো কম্পিউটার…সব মিলিয়ে যে অঙ্ক দাঁড়িয়েছে তা ৮০০ কোটি টাকারও বেশি

পরিসংখ্যান আরও চমকে দেয়। শুধু এই বছরেই দফতরগুলি থেকে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৯ লক্ষ বাতিল ফাইল এবং নথি। আধিকারিকদের মতে, এটি গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ সাফাই অভিযান।

সরকারি তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত মোট পাঁচ বার বড়সড় সাফাই অভিযানের আয়োজন করেছে কেন্দ্র। আর তাতেই রাজকোষে জমা হয়েছে প্রায় ৪,০৯৭ কোটি টাকা, যা ভারতে ইসরোর বহুচর্চিত ‘চন্দ্রযান-৩’ প্রকল্পের বাজেট—৬১৫ কোটি টাকার তুলনায় ১৮৫ কোটি টাকা বেশি

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগেই শুরু—তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ ও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই মহাসাফাই অভিযান শুরু হয়েছিল। তারপর থেকে প্রত্যেক বছরই বিভিন্ন দফতরে থোক সাফাই চলেছে। কেন্দ্র জানায়, এবারের অভিযানটি নজিরবিহীন।

অভিযানের তদারকি করেছেন তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী—

  • মনসুখ মাণ্ডব্য,
  • কে রামমোহন নাইডু,
  • জিতেন্দ্র সিংহ

পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দফতর—ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস অ্যান্ড পাবলিক গ্রিভান্সেস (DARPG)—বিভিন্ন মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ বাছাই, নথিভুক্ত এবং বিক্রির কাজ সম্পন্ন করেছে।

DARPG–এর দাবি, শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই তারা ৫৪টি মন্ত্রকের পুরনো ফাইল ও আসবাব সরাতে সক্ষম হয়েছে—একাধিক বিদেশি মিশন-সংক্রান্ত দফতরও এ তালিকায় রয়েছে।

২৩ লক্ষ অফিস, ৯২৮ লক্ষ বর্গফুট জায়গা—পাঁচ বছরের সাফাইয়ের সামগ্রিক ফলাফল

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় সাফাই অভিযানে মোট পরিষ্কার হয়েছে ২৩.৬২ লক্ষ বিভিন্ন অফিস কক্ষ। এ সময়ে দফতরগুলিতে জমে থাকা বাতিল ফাইল দখল করে রেখেছিল ৯২৮.৮৪ লক্ষ বর্গফুট জায়গা, যা আধুনিক শহরের একাধিক বহুতল অফিস কমপ্লেক্সের সমান।

এ সময়ে মোট বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ১৬৬.৯৫ লক্ষ ফাইল—যার আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪,০৯৭.২৮ কোটি টাকা

এই বিপুল আয় সরকারের রাজস্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্ক যোগ করবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

অফিসে স্ক্র্যাপ জমার সমস্যা কেন বাড়ছিল?

সরকারি দফতরে ফাইলের পাহাড় নতুন কিছু নয়।
কারণ হিসেবে আধিকারিকরা বলছেন—

  • নথি সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি নীতি
  • বিভিন্ন শাখায় কাজের চাপ
  • পুরনো আসবাবের বদল না হওয়া
  • প্রযুক্তিনির্ভর কাজ বাড়ার ফলে অচল ইলেকট্রনিক্স সঞ্চয়

এর ফলে বহু অফিসেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রাখত এসব বাতিল জিনিস। একইসঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়ত। এবার সেই জঞ্জালই এনে দিল রাজকোষে রেকর্ড আয়।

‘চন্দ্রযান-৩’-এর বাজেটকেও ছাড়িয়ে গেল স্ক্র্যাপ বিক্রি

চন্দ্রযান-৩—ভারতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা মহাকাশ অভিযান। ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট ইসরোর পাঠানো ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথমবার সফল অবতরণ করে ইতিহাস গড়ে। রোভার ‘প্রজ্ঞান’ প্রায় দু’সপ্তাহ মহাকাশ গবেষণার কাজে ডেটা সংগ্রহ করে।

পুরো মিশনের বাজেট ছিল মাত্র ৬১৫ কোটি টাকা

অথচ দেশজুড়ে সরকারি দফতর থেকে স্ক্র্যাপ বিক্রি করে কেন্দ্র পেল ৮০০ কোটি টাকা—যা চন্দ্রযান-৩-এর বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৮৫ কোটি বেশি। তুলনাটি ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সম্পদের পুনর্ব্যবহারের গুরুত্ব আরও একবার সামনে এনে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ই–ওয়েস্ট থেকে বিরল ধাতু উদ্ধারের দিকেও নজর—কেন্দ্রের ১,৫০০ কোটি টাকার পুরস্কার প্রকল্প

ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই–ওয়েস্ট গত কয়েক বছরে ভয়াবহ হারে বেড়েছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্টঘড়ি—দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, তত বাড়ছে এই বর্জ্যের পরিমাণও।

সরকারি তথ্য বলছে—

  • প্রতি বছর দেশে জমা হয় ১৭.৫ লক্ষ টন ই–ওয়েস্ট
  • এর মধ্যে ৬০ কিলোটন ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি

এসব বর্জ্যে থাকে—
লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল—যা ইলেকট্রনিক শিল্পের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ‘বিরল ধাতু’। এই ধাতুগুলির উৎপাদনে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে চীনের আধিপত্য রয়েছে।

এই বিদেশি নির্ভরতা কমাতেই মোদী সরকার ঘোষণা করেছে ১,৫০০ কোটি টাকার ইনসেন্টিভ স্কিম—যেখানে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে বিরল ধাতু পুনরুদ্ধারের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হবে শিল্প সংস্থাগুলিকে।

৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে ‘ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন’—এই প্রকল্প সেই মিশনের অন্তর্ভুক্ত।

অধিকর্তাদের দাবি, দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বহু আবেদন জমা পড়েছে। চলতি বছরের শেষের দিক থেকে ই–ওয়েস্ট প্রক্রিয়াকরণের কাজ পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আমদানিতে শুল্ক বাতিল—দেশীয় শিল্পের বড় সুযোগ

২০২৫–২৬ আর্থিক বাজেটে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আমদানির উপর থেকে শুল্ক সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণাও উল্লেখযোগ্য। এর ফলে ই–ওয়েস্ট সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং মূল্যবান ধাতু উদ্ধারে দেশীয় কোম্পানিগুলি আরও উৎসাহিত হবে বলে আশা করছে কেন্দ্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে নতুন বিনিয়োগ, স্টার্টআপ এবং শিল্প সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত বিরল ধাতুর সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে উঠে আসতে পারে।

সাফাই অভিযানের সঙ্গে স্ক্র্যাপ বাণিজ্য—নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল কেন্দ্র

প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি দফতরের স্ক্র্যাপ-ম্যানেজমেন্টে এই উদ্যোগ একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ—

  • জায়গা খালি
  • আর্থিক আয় বৃদ্ধি
  • অফিস ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি
  • ই–ওয়েস্ট হ্রাস
  • পরিবেশবান্ধব পুনর্ব্যবহার

ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোতে ‘স্ক্র্যাপ’ এত বড় অর্থনৈতিক সম্পদ হতে পারে—আগে কেউ ভাবেনি। এবার সেই ধারণাই বদলে দিল এই অভিযানের সাফল্য।

স্বচ্ছতা অভিযান থেকে রাজস্বের উৎস—নতুন পথে হাঁটছে ভারত

প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বচ্ছতা মিশনের সঙ্গে অফিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তো জড়িতই ছিল। তবে এবার প্রমাণিত হল—স্বচ্ছতা কেবল পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, তার রয়েছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক উপযোগিতা

দেশজুড়ে দফতরগুলিতে স্ক্র্যাপ পরিষ্কার ও বিক্রয়ের মাধ্যমে সরকার যেমন আয় বাড়িয়েছে, তেমনই পরিচ্ছন্ন অফিসঘর তৈরি করে প্রশাসনিক কর্মকাঠামোকে করেছে আরও সহজ ও কার্যকর।

চার বছরে সরকারি দফতরের ‘জঞ্জাল’ বিক্রি করে ৪,১০০ কোটি টাকা, শুধু ২০২৫-এর অক্টোবরেই ৮০০ কোটি টাকা, আবার একই সময়ে ই–ওয়েস্ট পুনর্ব্যবহার প্রকল্পে ১,৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা স্কিম—এই তিনটে তথ্যই বলে দেয়, ভারত সরকার স্ক্র্যাপ-ম্যানেজমেন্টকে কেবল ‘পরিষ্কার অভিযান’ হিসেবে নয়, বরং জাতীয় আর্থিক ও শিল্পোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই উদ্যোগ ভারতের প্রশাসনিক ও শিল্প কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। আর সেই পথেই এগোচ্ছে ভারতের নতুন ‘স্ক্র্যাপ অর্থনীতি’।

আরও পড়ুন: ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে বিশ্বজয় ভারতের

Join Our WhatsApp Group For New Update
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সবচেয়ে জনপ্রিয়