Annapurna Puja: কলকাতা, এপ্রিল ২০২৫: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মুখার্জি বাড়িতে পালিত হলো ৮৭ তম অন্নপূর্ণা পুজো। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা, যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিখ্যাত অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় এবং সুপ্রীম কোর্টের খ্যাতনামা আইনজীবী জয় দীপ মুখার্জি।
ঐতিহ্য ও ভক্তির মেলবন্ধন
মুখার্জি পরিবারের অন্নপূর্ণা পুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি আবেগ, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও এই উৎসব পালিত হয় ধুমধাম সহকারে। মুখার্জি বাড়ির এই পুজোয় বহু মানুষ অংশ নেন, যা এক অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের নজির গড়ে তুলেছে।
দেবশ্রী রায়ের উপস্থিতি
প্রখ্যাত অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়, যিনি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নাম, তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই পুজোতে। দেবশ্রী রায় বলেন, “এই ধরনের পারিবারিক ও ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলোর সঙ্গে জড়িত হতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। অন্নপূর্ণা মায়ের আশীর্বাদ আমাদের সকলের জন্য মঙ্গলজনক হোক।”
জয় দীপ মুখার্জির শুভেচ্ছা বার্তা
সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী জয় দীপ মুখার্জি, যিনি নিজেও এই পরিবারের একজন সদস্য, পুজোর আয়োজন নিয়ে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের এই ঐতিহ্য আজও সমানভাবে পালিত হচ্ছে, যা আমাদের সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পুজো শুধু ধর্মীয় নয়, বরং মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করে।”
উৎসবের বিভিন্ন আয়োজন
পুজো উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। ভক্তিমূলক সংগীত, নাটক ও ধুনুচি নাচের মাধ্যমে এই উৎসব আরও বর্ণময় হয়ে ওঠে। পুজোর প্রসাদ বিতরণ, ভোগ রান্না এবং সন্ধ্যা আরতি ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
জনসমাগম ও ভক্তদের উচ্ছ্বাস
প্রতি বছরের মতো এবারও প্রচুর মানুষ মুখার্জি বাড়ির অন্নপূর্ণা পুজোতে অংশ নেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজন ও বিশিষ্ট অতিথিদের সমাগম এই উৎসবকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
অন্নপূর্ণা পুজো কেবলমাত্র মুখার্জি পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির জন্য এক অমূল্য ঐতিহ্য। এই ধরনের পুজো শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এই বছরও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মুখার্জি বাড়িতে অন্নপূর্ণা পূজার মহোৎসব পালিত হলো। দেবী অন্নপূর্ণার আশীর্বাদে আগামীর বছরগুলিতেও এই উৎসব একই উজ্জ্বলতায় পালিত হবে, এই প্রত্যাশাই সকলের।