৩৪ সপ্তাহের অপরিণত নবজাতককে সংকটমুক্ত করতে জরুরি অস্ত্রোপচার,শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে NICU-তে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসায় ফিরল শিশুর অক্সিজেনের মাত্রা
জন্মের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুরু হয়েছিল শ্বাসকষ্ট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকায় ৩৪ সপ্তাহের অপরিণত এক নবজাতককে দ্রুত ভর্তি করা হয় সান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা NICU-তে। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় একের পর এক চিকিৎসা-চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় চিকিৎসকদের। শেষ পর্যন্ত নবজাতকের ফুসফুসের চারপাশে বাতাস জমে যাওয়ার মতো গুরুতর জটিলতা—ডান দিকের pneumothorax—ধরা পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে NICU-র মধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে intercostal drainage বা ICD tube বসিয়ে শিশুটির জীবন রক্ষার উদ্যোগ নেন চিকিৎসকরা।
ঘটনাটি ঘটে বীরভূম জেলার বোলপুরের বাসিন্দা সুষমিতা দাসের পুত্রসন্তানের ক্ষেত্রে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার সময় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। গর্ভকাল সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম নেওয়ায় জন্মের পর থেকেই তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়।
প্রথম ধাপ: নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম
গর্ভধারণের ৩৪ সপ্তাহে শিশুটির জন্ম হওয়ায় সে অপরিণত বা premature newborn হিসেবে চিকিৎসার আওতায় আসে। এ ধরনের শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের পর শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। এই নবজাতকের ক্ষেত্রেও জন্মের কয়েক মিনিটের মধ্যেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
শিশুটির শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়ায় চিকিৎসকরা দেরি না করে তাকে NICU-তে স্থানান্তর করেন। সেখানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তার শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকরা আরও উন্নত ধরনের non-invasive respiratory support হিসেবে CPAP দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
দ্বিতীয় ধাপ: CPAP দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা
CPAP বা Continuous Positive Airway Pressure এমন একটি শ্বাস-সহায়ক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট চাপের সাহায্যে শিশুর শ্বাসনালিতে বায়ুপ্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করা হয়। নবজাতকের শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
সান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের NICU-তে শিশুটিকে CPAP-এর মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তখন তার অবস্থা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল।
তবে শিশুটির শ্বাসকষ্টের প্রকৃত কারণ এবং ফুসফুসের অবস্থা বোঝার জন্য বুকের এক্স-রে করা হয়। সেই পরীক্ষায় নিউমোনিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু পরিবর্তন দেখা যায় বলে চিকিৎসকরা জানান।
এরপর চিকিৎসা পরিকল্পনায় উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক, শিরায় তরল এবং প্রয়োজনীয় শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা চালু রাখা হয়। শিশুটিকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
তৃতীয় ধাপ: হঠাৎ কমতে শুরু করল অক্সিজেনের মাত্রা
২৭ আগস্ট ২০২৬-এর সকাল। শিশুটির অবস্থায় আচমকাই পরিবর্তন লক্ষ্য করেন চিকিৎসক ও NICU কর্মীরা। তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা হঠাৎ কমতে শুরু করে।
অপরিণত নবজাতকের ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রার এমন আকস্মিক পতনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করেন। সম্ভাব্য জটিলতার আশঙ্কায় সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় বুকের এক্স-রে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিপোর্ট হাতে আসার পর স্পষ্ট হয় পরিস্থিতি আরও গুরুতর। এক্স-রে-তে শিশুটির ডান দিকে pneumothorax-এর লক্ষণ ধরা পড়ে।
চতুর্থ ধাপ: ধরা পড়ল pneumothorax
Pneumothorax এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে ফুসফুস ও বুকের দেওয়ালের মাঝের pleural space-এ বাতাস জমে যায়। এর ফলে ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করতে পারে।
এই নবজাতকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জরুরি বলে বিবেচিত হয়। চিকিৎসকরা সময় নষ্ট না করে জমে থাকা বাতাস বের করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
প্রথম পর্যায়ে needle aspiration-এর মাধ্যমে pleural cavity থেকে বাতাস বের করার চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাতাস বের করা সম্ভব হয়। এর পর শিশুটির অবস্থায় কিছুটা উন্নতিও দেখা যায়।
কিন্তু সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি।
পঞ্চম ধাপ: আংশিক উন্নতি, কিন্তু ঝুঁকি রয়ে গেল
বাতাস বের করে দেওয়ার পরেও শিশুটির রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ওঠানামা করতে থাকে। চিকিৎসকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।
পরবর্তীতে পুনরায় বুকের এক্স-রে করা হলে দেখা যায়, pneumothorax পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। অর্থাৎ বুকের ভিতরে বাতাস জমার সমস্যা এখনও আংশিকভাবে থেকে গিয়েছে।
শিশুটির শারীরিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য persistent air leak বিবেচনা করে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন যে শুধু needle aspiration যথেষ্ট নাও হতে পারে। এবার প্রয়োজন ছিল এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বুকের ভিতরে জমে থাকা বাতাস ধারাবাহিকভাবে বের করে দেওয়া সম্ভব হবে।
এই পরিস্থিতিতে intercostal drainage বা ICD tube বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ষষ্ঠ ধাপ: দ্রুত ডাকা হয় সার্জনকে
নবজাতকটি তখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় NICU-তে চিকিৎসাধীন। তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করলে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, সম্ভব হলে NICU-র মধ্যেই জরুরি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।
এই উদ্দেশ্যে হাসপাতালের সার্জন ডা. জাভিদ ভি. সিদ্দিকিকে জরুরি ভিত্তিতে ডাকা হয়।
শিশুটির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের চিকিৎসকরাও। তাঁদের উপস্থিতিতে এবং প্রফেসর (ডা.) অশোক কুমার দত্তের পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
সপ্তম ধাপ: NICU-তেই সফলভাবে ICD tube বসানো
২৭ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার সময় NICU-র মধ্যেই intercostal drainage procedure শুরু করা হয়।
শিশুটিকে অন্যত্র স্থানান্তর না করে তার চিকিৎসাধীন জায়গাতেই এই জরুরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ডা. জাভিদ ভি. সিদ্দিকি সফলভাবে ICD tube স্থাপন করেন।
এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের চিকিৎসক ও NICU-র চিকিৎসাকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
ড্রেনেজ টিউব বসানোর উদ্দেশ্য ছিল বুকের pleural space-এ জমে থাকা বাতাস ক্রমাগত বের করে দিয়ে ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রসারণে সহায়তা করা এবং শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা।
অষ্টম ধাপ: চিকিৎসার পর কমল শ্বাসকষ্ট
জরুরি প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর শিশুটির শ্বাসকষ্ট উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।
ড্রেনেজ টিউবটি তখনও স্থানে রাখা হয় এবং শিশুটিকে NICU-তে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় respiratory support, অ্যান্টিবায়োটিক, intravenous fluids এবং অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসা চালু থাকে।
২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটি চিকিৎসায় উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া দিচ্ছে এবং চলমান respiratory support-এর সাহায্যে তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি বজায় থাকছে।
নবম ধাপ: উন্নতি হলেও এখনও সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়
শিশুটির অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি চিকিৎসকদের কাছে অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তবে premature newborn হওয়া এবং সাম্প্রতিক গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের জটিলতার কারণে তাকে এখনও সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত বলা হচ্ছে না।
বর্তমানে শিশুটি NICU-তেই চিকিৎসাধীন। তার শ্বাস-প্রশ্বাস, অক্সিজেনের মাত্রা, হৃদস্পন্দন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী respiratory support চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক এবং শিশুর সামগ্রিক শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে intravenous fluids দেওয়া হচ্ছে।
ICD tube-এর কার্যকারিতাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিশুটির ফুসফুস এবং pneumothorax-এর অবস্থার উন্নতি হয়েছে কি না, তা বুঝতে প্রয়োজনে পরবর্তী পর্যায়ে আরও পরীক্ষা করা হবে।
দশম ধাপ: পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ
এই পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় শিশুটির বাবা-মাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত জানানো হয়েছে। শিশুর শারীরিক অবস্থা, বিভিন্ন পরীক্ষা, সম্ভাব্য জটিলতা এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা ও কাউন্সেলিং করা হয়েছে।
হঠাৎ করে নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। সেই কারণে চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের যথাযথভাবে পরিস্থিতি বোঝানোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা শিশুটির বর্তমান অবস্থার ইতিবাচক দিকগুলি যেমন পরিবারের কাছে তুলে ধরেছেন, তেমনই এখনও যে নিবিড় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার করেছেন।
চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব
এই ঘটনায় একাধিক পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। প্রথমে শ্বাসকষ্টের জন্য অক্সিজেন, পরে CPAP, নিউমোনিয়ার সম্ভাব্য চিকিৎসা, হঠাৎ অক্সিজেন কমে যাওয়ার পর দ্রুত পুনরায় এক্স-রে, pneumothorax শনাক্ত হওয়ার পর needle aspiration এবং শেষ পর্যন্ত ICD tube বসানো—প্রতিটি পর্যায়েই পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়েছে।
বিশেষ করে নবজাতককে NICU থেকে বাইরে স্থানান্তর না করে সেখানেই জরুরি ICD procedure সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তটি শিশুটির তৎকালীন সংকটাপন্ন অবস্থাকে বিবেচনা করেই নেওয়া হয়।
এই সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল শিশুটিকে যত দ্রুত সম্ভব স্থিতিশীল করা এবং তার শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বজায় রাখা।
NICU-র ভূমিকা আরও একবার সামনে
এই ঘটনাটি নবজাতকের ক্ষেত্রে NICU-র গুরুত্বও সামনে নিয়ে এসেছে। অপরিণত শিশুরা জন্মের পর নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় respiratory support এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের NICU-তে শিশুটিকে জন্মের পর থেকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা সম্ভব হয়েছিল। পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরাও দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে শিশুটি?
২৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি ICD drainage-এর পর তার শ্বাসকষ্ট কমেছে এবং চলমান respiratory support-এর সাহায্যে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে।
তবে শিশুটি এখনও গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার বয়স কম এবং সে ৩৪ সপ্তাহে জন্ম নেওয়া premature newborn। ফলে আগামী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
চিকিৎসকরা তাই আপাত উন্নতিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা পর্যন্ত শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
শেষ কথা
বোলপুরের সুষমিতা দাসের সদ্যোজাত পুত্রের এই চিকিৎসা-পর্ব ছিল একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। জন্মের পর শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে নিউমোনিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণ, পরবর্তীতে হঠাৎ অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ডান দিকের pneumothorax শনাক্ত হওয়া—প্রতিটি ধাপেই শিশুটিকে নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে।
needle aspiration-এর মাধ্যমে প্রথমে জমে থাকা বাতাস বের করার পরও সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় চিকিৎসকরা দ্রুত intercostal drainage-এর সিদ্ধান্ত নেন। NICU-তেই সার্জন ডা. জাভিদ ভি. সিদ্দিকির নেতৃত্বে জরুরি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং প্রফেসর (ডা.) অশোক কুমার দত্তের পরামর্শে চিকিৎসার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করা হয়।
জরুরি চিকিৎসার পর শিশুটির শ্বাসকষ্ট কমেছে এবং অক্সিজেনের মাত্রাও আশাব্যঞ্জকভাবে উন্নত হয়েছে। তবে তার চিকিৎসা এখনও শেষ হয়নি। NICU-তে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় respiratory support অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা এই অপরিণত নবজাতক আপাতত চিকিৎসায় ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। আগামী দিনগুলিতে তার শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হবে—এই আশাতেই চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বার্তা স্পষ্ট—উন্নতি আশাব্যঞ্জক হলেও এই মুহূর্তে সতর্কতা ও নিবিড় পরিচর্যার কোনো বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন : AI মা: প্রযুক্তি এবার পৌঁছবে গ্রামের দোরগোড়ায়,অভিনব উদ্যোগ অ্যান্ট্যোদয় ডিজিটাল মিশনের!!!





