Indian Railway:ডিজেল ও বিদ্যুতের দিন ফুরিয়ে কি এবার জলের দাপট শুরু হতে চলেছে ভারতীয় রেলে? পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। দেশের বুকে প্রথমবার ছুটতে চলেছে হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন। সম্প্রতি রেলওয়ে বোর্ড এই ঐতিহাসিক প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তির দিক থেকে এক লাফে অনেকটা এগিয়ে গেল ভারতীয় রেল।
দিল্লি বিভাগে প্রথম যাত্রা
রেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতের এই প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি উত্তর রেলওয়ের দিল্লি বিভাগের অধীনে জিন্দ-সোনিপত রুটে চালানো হবে। গত ২২ মে ‘রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন’ (RDSO) এবং উত্তর রেলওয়েকে পাঠানো একটি চিঠিতে রেল বোর্ড এই সবুজসংকেত দেয়। ট্র্যাকের ওপর ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ রেলওয়ে সুরক্ষার প্রধান কমিশনারের আবেদনের পর এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তারও আগে, মার্চ মাসেই লখনউয়ের আরডিএসও (RDSO) এই ট্রেনের ‘অসিলেশন ট্রায়াল’ বা দোলন পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল। ফলে যাত্রী সুরক্ষার দিক থেকে ট্রেনটি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ।
বিশ্বরেকর্ডের দোরগোড়ায় ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেন
বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু হলে ভারত বিশ্বের বুকে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করবে। জার্মানি, সুইডেন, জাপান এবং চিনের মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হবে ভারতের নাম, যারা হাইড্রোজেন ট্রেন পরিচালনায় সক্ষম।
তবে ভারতের এই ট্রেনটি আরও একটি কারণে বিশেষ। এটি বর্তমানে ব্রড গেজ লাইনে চলাচলকারী বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেনসেট হতে চলেছে।
ট্রেনের মূল প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:
কোচ বা বগির সংখ্যা: ট্রেনটিতে মোট ১০টি বগি বা কোচ থাকবে। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ যাত্রীবাহী কোচ।
পাওয়ার কার: ট্রেনের দুই প্রান্তে দুটি ১২০০ কিলোওয়াটের ড্রাইভিং পাওয়ার কার (DPC) থাকবে।
মোট ক্ষমতা: দুই প্রান্তের পাওয়ার কার মিলিয়ে ট্রেনটির মোট ক্ষমতা ২৪০০ কিলোওয়াট।
কেন এটি রেলের ‘মাস্টারস্ট্রোক’?
চিরাচরিত ডিজেল বা বিদ্যুৎ চালিত ট্রেনের সঙ্গে এই ট্রেনের কাজের পদ্ধতিতে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি (Hydrogen Fuel Cell Technology)।
কীভাবে কাজ করে?
হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই ট্রেনে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা ট্রেনটিকে সচল রাখে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড, ধোঁয়া বা বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় না। উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে কেবল বিশুদ্ধ জল ও জলীয় বাষ্প তৈরি হয়।
তাই আক্ষরিক অর্থেই এই ট্রেনটি কেবল জল (জলীয় বাষ্প) ছেড়ে পরিবেশকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত রেখে ছুটে চলবে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং ভারতীয় রেলের কার্বন ফুটপ্রিন্ট শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে এটিকে একটি মাস্টারস্ট্রোক বা অত্যন্ত বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খুব শীঘ্রই সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই ট্রেনটি ট্র্যাকে নামতে চলেছে। ভবিষ্যতের ভারতের সবুজ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এটি যে একটি মস্ত বড় লাফ, তা বলাই বাহুল্য।





