Positive বার্তা (বাংলা)

A teamwork initiative of Enthusiastic people using Social Media Platforms

Homeপ্রযুক্তিNISAR উপগ্রহ: মহাকাশে ভারত ও আমেরিকার যুগ্ম অভিযানের নতুন দিগন্ত 🌍

NISAR উপগ্রহ: মহাকাশে ভারত ও আমেরিকার যুগ্ম অভিযানের নতুন দিগন্ত 🌍

NISAR Satellite: বিশ্ব জলবায়ু ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় পর্যবেক্ষণে এবার বড় ভূমিকা নিতে চলেছে ভারত ও আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত NISAR উপগ্রহ। NASA (নাসা) ও ISRO (ইসরো)-এর যুগ্ম প্রচেষ্টায় তৈরি এই অত্যাধুনিক রাডার স্যাটেলাইটটি পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে সক্ষম একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে চলেছে।

উৎক্ষেপণ ও অবস্থান

২০২৫ সালের ৩০ জুলাই, ভারতের শ্রীহরিকোটা-র সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ইসরোর GSLV-F16 রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় NISAR উপগ্রহটিকে। বর্তমানে এটি পৃথিবী থেকে ৭৪৭ কিলোমিটার উচ্চতায় সূর্য-সমকালীন কক্ষপথে (Sun-Synchronous Orbit) অবস্থান করছে। এই কক্ষপথের গঠন এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে এটি একই এলাকা প্রতিবার একই রকম সূর্যালোকের অধীনে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

উপগ্রহের কক্ষপথ বৈশিষ্ট্য:

  • উচ্চতা: ৭৪৭ কিমি (৪৬৪ মাইল)
  • কক্ষপথের ধরন: সূর্য-সমকালীন
  • ইনক্লিনেশন: ৯৮.৫ ডিগ্রি
  • পেরিজি ও অ্যাপোজি: সমান (৭৪৭ কিমি)

প্রযুক্তিগত বিশেষত্ব

NISAR-এর পূর্ণ রূপ NASA-ISRO Synthetic Aperture Radar। এই উপগ্রহে রয়েছে দুটি অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম —

  • L-band SAR (NASA দ্বারা নির্মিত)
  • S-band SAR (ISRO দ্বারা নির্মিত)

এই যুগ্ম রাডার প্রযুক্তি পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের খুব সূক্ষ্ম পরিবর্তন, বনভূমির অবস্থা, হিমবাহের গতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে পারবে।

পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা

NISAR উপগ্রহটি প্রতি ১২ দিনে একবার পুরো পৃথিবীর স্থলভাগ এবং বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চল স্ক্যান করতে পারবে। এর মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর নিম্নলিখিত পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারব—

ভূমির বিকৃতি

ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি বা খনিজ উত্তোলনের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের নড়াচড়া দ্রুত ও নিখুঁতভাবে সনাক্ত করতে পারবে NISAR।

হিমবাহের গতিবিধি

পৃথিবীর মেরু অঞ্চল ও হিমবাহগুলির গতি এবং গলনের মাত্রা জানার জন্য এই উপগ্রহ বড় ভূমিকা পালন করবে।

বনজ সম্পদের পরিবর্তন

বন উজাড়, অরণ্যের স্বাস্থ্য বা পুনঃবনায়ন পর্যবেক্ষণে সহায়ক হবে এই উপগ্রহের ডেটা।

ভূমিধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি নিরূপণ ও পূর্বাভাস দিতে ব্যবহৃত হবে এর উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি ও রাডার পরিমাপ।

জলবায়ু গবেষণা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান

বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সংকট। বরফ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ও আবহাওয়ার চরমতা বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রভাব ফেলছে। NISAR উপগ্রহ সেই পরিবর্তনের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করতে পারবে যা বিজ্ঞানীদের পরিবেশ রক্ষা ও নীতিনির্ধারণে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উপগ্রহের মাধ্যমে ভৌগোলিক তথ্যচিত্র এতটাই নিখুঁতভাবে পাওয়া যাবে যে, সেটি স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা, কৃষি ব্যবস্থাপনা, খরা বা বন্যার পূর্বাভাস এবং স্থলজ সম্পদের সংরক্ষণে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

ভারত-আমেরিকার যুগলবন্দি

এই প্রকল্পটি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। NASA ও ISRO— দুই সংস্থার মেধা, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণেই জন্ম নিয়েছে NISAR।

  • NASA সরবরাহ করেছে L-band SAR রাডার, হাই-পাওয়ার কমিউনিকেশন সিস্টেম ও প্রধান রাডার বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ।
  • ISRO দিয়েছে S-band SAR, উপগ্রহ প্ল্যাটফর্ম, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও ট্র্যাকিং সাপোর্ট।

এই প্রকল্পে দুই দেশের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে গবেষণা, প্রকৌশল এবং মিশন পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

পরবর্তী এক দশকে NISAR-এর ডেটা ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ, কৃষিভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হবে।

বিশ্বজুড়ে গবেষণা সংস্থা, সরকারি নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ ও প্রযুক্তিবিদেরা এই উপগ্রহের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে স্থানীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে পারবেন।

উপসংহার

NISAR শুধুমাত্র একটি উপগ্রহ নয়, এটি ভবিষ্যতের উন্নত ও সুরক্ষিত পৃথিবীর স্বপ্নপূরণের পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ভারত ও আমেরিকার এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন আমাদের পৃথিবীকে আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং রক্ষা করতে সাহায্য করবে।

এই যৌথ উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।

আরও পড়ুন: সম্প্রীতির সুতোয় বাঁধা দুর্গাপুর: রাখি উৎসবে সৌভ্রাতৃত্বের নতুন অধ্যায়

Join Our WhatsApp Group For New Update
RELATED ARTICLES

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সবচেয়ে জনপ্রিয়