Ganesh Baraiya:শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানুষের স্বপ্নের পথে যে কোনোদিন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন গুজরাটের ভাবনগরের বাসিন্দা গণেশ বারাইয়া। মাত্র ৩ ফুট উচ্চতা, ২০ কেজিরও কম ওজন এবং ৭২ শতাংশ শারীরিক অক্ষমতা নিয়েও নিজের অদম্য সংকল্পের জোরে আজ তিনি একজন সফল চিকিৎসক।
প্রতিকূলতার সূচনা ও আইনি লড়াই
কৃষক পরিবারের সন্তান গণেশ ছোটবেলা থেকেই নানা সামাজিক ও শারীরিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডোয়ার্ফিজম’ বা বামনত্বে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও পড়াশোনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। জাতীয় মেধা ও যোগ্যতা প্রবেশিকা পরীক্ষায় (NEET) কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেল পড়ার যোগ্যতা অর্জন করা সত্ত্বেও তাঁর পথ মসৃণ ছিল না।
মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (MCI) তাঁর শারীরিক উচ্চতা ও দূরত্বের অজুহাত দেখিয়ে এমবিবিএস (MBBS) কোর্সে ভর্তিতে অস্বীকৃতি জানায়। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, কম উচ্চতার কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা তাঁর পক্ষে কঠিন হবে।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
MCI-এর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দমে যাননি গণেশ। নিজের নীলকণ্ঠ বিদ্যাপীঠের স্কুলের অধ্যক্ষ ড. দলপতভাই কাটারিয়ার সহায়তায় তিনি আইনি লড়াই শুরু করেন। গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ার পর মামলাটি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর শারীরিক অক্ষমতাকে যোগ্যতার মাপকাঠি না মেনে ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে জানায়—মাত্র ৩ ফুট উচ্চতার কারণে কোনো ছাত্রকে ডাক্তারি পড়া থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
পেশাগত সাফল্য ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর ২০১৯ সালে গণেশ ভাবনগর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এমবিবিএস শেষ করে এবং বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে তিনি বর্তমানে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বা সবচেয়ে কম উচ্চতার এই চিকিৎসক বর্তমানে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান।
প্রাথমিকভাবে রোগীরা তাঁকে দেখে কিছুটা অবাক হলেও, তাঁর চিকিৎসাসেবা ও আন্তরিক ব্যবহারে দ্রুতই আস্থা ফিরে পান। অদম্য মনোবল ও জেদ থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব—গণেশ বারাইয়ার এই জীবনের গল্প আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।





