flight of spirits: ট্রাক চালকের মেয়ে এখন ইউপিএসসি বিজয়ী!!!
কথায় আছে, ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’। কিন্তু সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন হয় পাহাড়প্রমাণ ধৈর্য আর কঠোর তপস্যা। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার রুরকির পিরান কালিয়ারের বাসিন্দা ফাইরুজ ফাতিমা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন। মধ্যবিত্ত নয়, বরং অতি সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি সিভিল সার্ভিসের মঞ্চে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
সংগ্রামের নেপথ্যে এক বাবার স্বপ্ন:
২৭ বছর বয়সী ফাতিমার বাবা ইকবাল আহমেদ পেশায় একজন ট্রাক চালক। দিনরাত এক করে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে তিনি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। মা সাধারণ গৃহিণী। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে বড় কোনো স্বপ্ন দেখা যেখানে বিলাসিতা, সেখানে ফাতিমা স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার। তার এই দীর্ঘ আট বছরের লড়াইয়ে পরিবার ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
সাফল্যের সিঁড়ি: তৃতীয় প্রচেষ্টায় বাজিমাত:
ফাতিমা বর্তমানে দিল্লিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তবে তার লক্ষ্য ছিল আরও উঁচুতে। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও ইউপিএসসির প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। প্রথম দুইবার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও হার মানেননি। অবশেষে নিজের তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৭০৮তম র্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি প্রমাণ করলেন যে, জেদ থাকলে পরিস্থিতি কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
খেলাধুলা ও পড়াশোনার ভারসাম্য:
কেবল পড়াশোনা নয়, ফাতিমা বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি রাগবি খেলতে এবং দেখতে ভীষণ ভালোবাসেন। পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটাতে এবং মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে খেলাধুলা তাকে সাহায্য করেছে। তার এই বহুমুখী ব্যক্তিত্বই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
উত্তরাখণ্ডের গর্ব: আরও একঝাঁক কৃতি
২০২৫ সালের এই পরীক্ষায় শুধু ফাতিমা নন, উত্তরাখণ্ড থেকে আরও বেশ কয়েকজন সাফল্যের মুখ দেখেছেন:
মীনাল নেগি: তেহরির এই কৃতি কন্যা ৬৬তম স্থান অর্জন করেছেন।
অনুজ পান্ত: চম্পাওয়াতের বাসিন্দা অনুজ পান্ত অর্জন করেছেন ৬৯তম স্থান।
আদিত্য পাঠক: পিথোরাগড়ের এই যুবক ১৮৯তম র্যাঙ্ক করেছেন।
উপসংহার:
ফাইরুজ ফাতিমার এই জয় কেবল একার নয়, এটি সেই সমস্ত অগণিত ছাত্রছাত্রীদের জয় যারা অভাবের কাছে হার না মেনে লড়ে যাওয়ার সাহস দেখায়। তার এই “শূন্য থেকে শিখরে” পৌঁছানোর গল্প আগামী প্রজন্মের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।





