The Rose Elixir: আমাদের চারপাশে এমন অনেক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো গুলকন্দ। মূলত গোলাপের পাপড়ি এবং চিনির (বা মিছরি) মিশ্রণে তৈরি এই সুস্বাদু ভেষজটি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ঠান্ডা রাখা থেকে শুরু করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো পর্যন্ত এর কার্যকারিতা অপরিসীম।
ত্বকের যত্নে গুলকন্দের বিস্ময়কর গুণাবলী
গুলকন্দে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। কেন এটি আপনার বিউটি রুটিনে থাকা উচিত, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বা গ্লো: নিয়মিত গুলকন্দ সেবন করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এটি ত্বকের ক্লান্তি দূর করে ভিতর থেকে একটি গোলাপি আভা বা ন্যাচারাল গ্লো নিয়ে আসে।
বয়সের ছাপ প্রতিরোধ: গুলকন্দের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের কোষকে ‘ফ্রি-র্যাডিকাল’ এর হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে অকালে বলিরেখা পড়া কমে এবং ত্বক টানটান থাকে।
ব্রণ ও টক্সিন মুক্তি: এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে গেলে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা একদম কমে যায়।
প্রদাহ ও লালচে ভাব দূর করা: যাদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তাদের ত্বকের লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া কমাতে গুলকন্দের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান দারুণ কাজ করে।
গভীরভাবে হাইড্রেশন: এটি ত্বককে ভিতর থেকে হাইড্রেট রাখে, যার ফলে শুষ্কতা দূর হয় এবং ত্বক নরম ও কোমল থাকে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী গুলকন্দের ব্যবহার পদ্ধতি
গুলকন্দ শুধু খেলেই হয় না, এটি দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাকও ত্বকের জন্য খুব কার্যকর। দেখে নিন কিছু ঘরোয়া উপায়:
প্যাকের ধরন উপকরণ পদ্ধতি
উজ্জ্বলতার জন্য ১ চামচ গুলকন্দ, ১ চামচ দই ও মুলতানি মাটি সব মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।
কোমল ত্বকের জন্য গুলকন্দ ও সামান্য গোলাপজল মিশ্রণটি ত্বকে ম্যাসাজ করলে জ্বালাপোড়া কমে ও ত্বক নরম হয়।
এক্সফোলিয়েশন গুলকন্দ ও ওটস বা চিনি সপ্তাহে একদিন এই মিশ্রণটি স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত কোষ দূর হয়।
শেষ কথা
বাজারে কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর ভিড়ে গুলকন্দের মতো প্রাকৃতিক উপাদান বেছে নেওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এটি যেমন আপনার হজম শক্তি বাড়িয়ে শরীর ঠান্ডা রাখবে, তেমনই উপহার দেবে দাগহীন ও প্রাণবন্ত ত্বক। তাই আজ থেকেই আপনার ডায়েট চার্টে বা রূপচর্চায় যুক্ত করুন এই মিষ্টি ভেষজটি।
আরও পড়ুন: লাল মাটিতে সোনার ফসল: জঙ্গলমহলের রুক্ষ জমিতে কুলের বিপ্লব ঘটাচ্ছেন মেদিনীপুরের অধ্যাপক





