The $3.4 Million Catch: মাছ বাঙালির প্রিয় খাদ্য হলেও এক পিস মাছের দাম কয়েক কোটি টাকা হতে পারে, তা কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই জাপানের টোকিওতে ঘটেছে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা। টোকিওর বিখ্যাত তোয়োসু (Toyosu) মাছ বাজারে একটি বিশাল আকারের ব্লু-ফিন টুনা (Bluefin Tuna) বা নীল পাখনার টুনা মাছ নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে।
মাছটির বিশেষত্ব ও নিলামের তথ্য
মাছটি সাধারণ কোনো মাছ নয়, ওজনে এটি প্রায় ২৪৩ কেজি। সমুদ্রের এই দানবীয় মাছটি নিলামে ওঠার পর থেকেই দাম চড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত একটি বিখ্যাত জাপানি সুশি রেস্তোরাঁ চেন রেকর্ড পরিমাণ অর্থ দিয়ে এটি কিনে নেয়।
ওজন: ২৪৩ কেজি।
বিক্রয় মূল্য: প্রায় ২৮ কোটি ৮৩ লক্ষ ভারতীয় টাকা।
ক্রেতা: জাপানের একটি প্রথম সারির সুশি রেস্তোরাঁ চেইন।
কেন এই মাছের এত দাম?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, একটি মাছের পেছনে এত টাকা খরচ করার কারণ কী? এর পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে:
১. স্বাদ ও চর্বির গুণমান: নীল পাখনার টুনা মাছের মাংসে ফ্যাটের একটি চমৎকার বিন্যাস থাকে, যাকে জাপানি ভাষায় ‘টোরো’ বলা হয়। এটি মুখে দিলেই মিলিয়ে যায় এবং এর স্বাদ বিশ্বের অন্য যেকোনো মাছের চেয়ে আলাদা। ২. সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: জাপানে নতুন বছরের প্রথম নিলামকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ব্যবসায়ীরা বিশ্বাস করেন, বছরের প্রথম বড় নিলামে অংশ নিলে সারা বছর ব্যবসায় শ্রী বৃদ্ধি ঘটে। এটি অনেকটা ঐতিহ্যের লড়াইও বটে। ৩. বিরলতা: সমুদ্রের তলদেশে এই ধরনের বড় আকারের এবং উচ্চমানের ব্লু-ফিন টুনা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে এর চাহিদা যেমন তুঙ্গে, জোগান তেমন কম।
রেকর্ড গড়া নতুন বছর
জাপানে মাছের নিলামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের দাম আগের অনেক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে সুশি প্রেমীদের কাছে এই মাছটি অমূল্য রত্নের মতো। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তাদের গ্রাহকদের সেরা স্বাদের অভিজ্ঞতা দিতেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
সাধারণ মানুষের কাছে এই খবরটি বিস্ময়কর হলেও, আন্তর্জাতিক মৎস্য বাজারে নীল পাখনার টুনা এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘জলের সোনা’।
আরও পড়ুন: ক্রিকেটের আঙিনা থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন: ১৪ বছরের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীর নতুন ইতিহাস





